যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

আগস্টেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী ১২০২, মোট আক্রান্ত ২১৮৬

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪২ PM ৯৯
আগস্টেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী ১২০২, মোট আক্রান্ত ২১৮৬

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত থাকলেও জুন থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে আগস্টে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৮৬ জন। এর মধ্যে শুধু আগস্টেই আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২০২ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৮ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে খালেদা বেগম (৪৭) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নারী ও তিনজন পুরুষ।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের মোট আক্রান্তদের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের ৯৩৬ জন, জেলার বিভিন্ন এলাকার ৯৫৫ জন এবং চট্টগ্রামের বাইরে থেকে এসে চিকিৎসা নেওয়া ২৯৫ জন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ১৫১ জন, নারী ৬০২ জন এবং শিশু ৪৩৩ জন।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৪৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৩৯ জন। আক্রান্তদের বড় অংশ চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে।

মাসভিত্তিক হিসাবেও সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়টি স্পষ্ট। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১৭৬ জন। জুনে নতুন করে আক্রান্ত হন ১২২ জন। জুলাইয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় এবং মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭২ জনে পৌঁছায়। এরপর আগস্টে এক মাসেই ১ হাজার ২০২ জন আক্রান্ত হওয়ায় সংক্রমণের গতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সেপ্টেম্বরের শুরুতেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ১ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে আগের ২৪ ঘণ্টায় ৭২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। ওই সময় চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১০৮ জন। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৮ জন আক্রান্ত হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ১৮৬ হয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধনের পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বাড়িঘর, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত স্থাপনা ও আশপাশের খোলা জায়গায় পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই এসব স্থানে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে নগরবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও জরুরি। জ্বর বা ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের মশারির মধ্যে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেককে নিজের ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। তিনি জানান, রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মশারির মধ্যে রাখা জরুরি। কারণ রোগীর শরীর থেকে মশার মাধ্যমে আশপাশের সুস্থ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

চট্টগ্রাম ডেঙ্গু

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!