যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৬ PM ৫৯
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

সিলেটে হামের সংক্রমণ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের তৎপরতা। ফাইল ছবি

সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৪৬ জন। চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে।

সোমবার সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত এক দিনে নতুন করে কোনো রোগীর হাম শনাক্ত হয়নি। তবে উপসর্গ থাকায় ১৪৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৬৭ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। আর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬০ জন। সব মিলিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ৪৯৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে রয়েছেন সিলেটের কানাইঘাটের ১০ বছর বয়সী এমরান হোসেন, জকিগঞ্জের ৭ মাস বয়সী ওবায়দুল্লাহ, হবিগঞ্জের বাহুবলের ১০ মাস বয়সী সাফায়েত এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ৩ বছর ৩ মাস বয়সী খাদিজা।

এমরান হোসেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অপর তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম বলেন, আগের তিন দিন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে একদিনেই দুই হাসপাতালে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, মৃত শিশুরা বিভিন্ন ধরনের রোগেও আক্রান্ত ছিল।

রোগীর চাপ সামলাতে উপজেলা পর্যায়েই চিকিৎসা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান ডা. শামীম। তিনি বলেন, রোগীর অবস্থা গুরুতর না হলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রতিটি উপজেলায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হলেই রোগীকে সিলেট শহরে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওসমানী ও শামসুদ্দিন হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবায় চাপ তৈরি হচ্ছে। অনেক রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর না হলেও তাঁরা শহরের হাসপাতালগুলোতে চলে আসছেন। পাশাপাশি হাম একজনের শরীর থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

ডা. শামীমের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সিলেট হাম

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!