যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মারিবে তীব্র সংঘর্ষ, ৮০ হুতি যোদ্ধা নিহতের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৭ PM
মারিবে তীব্র সংঘর্ষ, ৮০ হুতি যোদ্ধা নিহতের দাবি

মারিবে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ; ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের জ্বালানি ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে তীব্র লড়াই হয়েছে। প্রায় এক দিন ধরে চলা এই সংঘর্ষে ৮০ জনের বেশি হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। রোববার আরব নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে সেনাবাহিনীর সামরিক গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি এ দাবি করেন।

ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, মারিব শহরের দক্ষিণের হারিব, মালা ও উম রাইশ এলাকায় শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। সরকারি বাহিনী বিমান ও ড্রোনের সহায়তায় হুতিদের আক্রমণ প্রতিহত করে। এ সময় হুতিদের নয়টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

আল-হাতেমির দাবি, সরকারি বাহিনীর পাল্টা আক্রমণের মুখে হুতিদের বেশ কয়েকটি অবস্থান থেকে সরে যেতে হয়েছে। মারিবের বিভিন্ন ফ্রন্টে হুতিদের যোদ্ধা সমাবেশ, সামরিক রসদ ও শক্ত অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়।

মারিব দীর্ঘদিন ধরেই ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল। এখানে তেল-গ্যাসের মজুত, সামরিক স্থাপনা এবং একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে গত এক দশকে দুই মিলিয়নের বেশি মানুষও এ অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে বলে আরব নিউজ জানিয়েছে।

মারিবের নিয়ন্ত্রণ নিতে হুতিরা অতীতেও একাধিক বড় অভিযান চালিয়েছে। তবে শহরটি দখলে তারা সফল হয়নি। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের সংঘাত কিছুটা কমে এসেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় আবারও লড়াই বেড়েছে।

এদিকে হুতি-নিয়ন্ত্রিত সানা, আমরান ও হোদেইদাসহ বিভিন্ন এলাকায় শনিবার অন্তত ৫০ যোদ্ধার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আল-হাতেমি। তাদের মধ্যে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন। তবে হুতিদের পক্ষ থেকে মারিবের লড়াইয়ে নিহতের সংখ্যা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, মারিবের বাইরের পার্বত্য এলাকায় সংঘর্ষের পর নোমান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ তারা নিয়েছে। একই সময়ে দেশের অন্য অংশেও সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে লড়াই চলছে। ফলে দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!