যুক্তরাষ্ট্র   বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১ আশ্বিন ১৪৩৩

সন্তানের জেদ কমাতে ২১ মিনিটের অভ্যাস: প্রতিদিনের ৩ ধাপে বাড়ান বিশ্বাস

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৬ PM ৮৪
সন্তানের জেদ কমাতে ২১ মিনিটের অভ্যাস: প্রতিদিনের ৩ ধাপে বাড়ান বিশ্বাস

ছবি: সংগৃহীত

সন্তান একই বাড়িতে থাকলেও ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে তার মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে। পড়াশোনা, স্কুল, টিউশন, মোবাইল কিংবা নানা দায়িত্বের ভিড়ে অনেক সময় সন্তানের সঙ্গে মন খুলে কথা বলার সুযোগ হয়ে ওঠে না। এর প্রভাব তার আচরণেও দেখা যেতে পারে—বাড়তে পারে জেদ, রাগ, অভিমান কিংবা অবাধ্যতা।

তবে সন্তানের আচরণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু বকাঝকা বা শাসনের ওপর নির্ভর না করে তার সঙ্গে নিয়মিত গুণগত সময় কাটানো বেশি কার্যকর হতে পারে। অর্থাৎ পাশে বসে থাকা নয়, সেই সময়টুকুতে সন্তানের কথা মন দিয়ে শোনা এবং তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

এমন একটি সহজ ধারণা হলো ‘৭-৭-৭’ পদ্ধতি। এতে প্রতিদিন মোট ২১ মিনিট সন্তানের সঙ্গে তিনটি আলাদা ধরনের যোগাযোগের জন্য রাখার কথা বলা হয়। এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়; বরং নিয়মিত যোগাযোগের একটি সহজ রুটিন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭-৭-৭ পদ্ধতি কী?

এই পদ্ধতিতে প্রতিদিন তিনটি ৭ মিনিটের সময় রাখা যায়।

১. সাত মিনিট শুধু কথা বলুন

সন্তানের দিন কেমন গেল, স্কুলে কী ঘটেছে, কোনো বিষয় তাকে আনন্দ দিয়েছে কি না কিংবা সে কোনো সমস্যায় আছে কি না—এসব নিয়ে সহজভাবে কথা বলুন।

তবে প্রশ্নের পর প্রশ্ন না করে স্বাভাবিক কথোপকথনের পরিবেশ তৈরি করুন। এতে সন্তান ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারে।

২. সাত মিনিট একসঙ্গে কিছু করুন

এই সময়টিতে সন্তানের পছন্দের কোনো কাজে অংশ নিন। হতে পারে খেলাধুলা, ছবি আঁকা, গল্পের বই পড়া, হাঁটাহাঁটি কিংবা তার পছন্দের কোনো ছোট্ট খেলা।

মূল বিষয় হলো—কাজটি কী, তার চেয়ে বাবা-মা ও সন্তান একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন কি না

৩. সাত মিনিট মন দিয়ে শুনুন

সন্তান যখন নিজের কথা বলছে, তখন সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভুল-ঠিকের বিচার বা উপদেশ দেওয়ার চেষ্টা না করে আগে তার কথাটা বুঝতে চেষ্টা করুন।

যেমন, সন্তান কোনো স্কুলের ঘটনা নিয়ে মন খারাপের কথা বললে সঙ্গে সঙ্গে ‘এত ছোট বিষয় নিয়ে মন খারাপ করছ কেন?’ না বলে বলতে পারেন, ‘তোমার ঘটনাটা শুনে মনে হচ্ছে তুমি কষ্ট পেয়েছ।’

এ ধরনের প্রতিক্রিয়া সন্তানকে তার অনুভূতি প্রকাশের জন্য নিরাপদ পরিবেশ দিতে পারে।

২১ মিনিট কীভাবে ভাগ করবেন?

সকালে ৭ মিনিট

সকালের ব্যস্ততার মধ্যেও কয়েক মিনিট সন্তানের পাশে বসুন। নাশতার সময় তার দিনের পরিকল্পনা জানতে পারেন। স্কুলে আজ কী আছে, কোনো বিশেষ কিছু নিয়ে সে উৎসাহী কি না—এমন সহজ প্রশ্ন দিয়ে দিন শুরু করুন।

স্কুল থেকে ফেরার পর ৭ মিনিট

স্কুল থেকে ফেরার পরপরই পড়াশোনা, পরীক্ষা বা ফলাফল নিয়ে প্রশ্নের ঝড় না তুলে আগে জানতে চান সে কেমন আছে। ক্ষুধার্ত বা ক্লান্ত থাকলে তাকে কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ দিন।

তারপর স্বাভাবিকভাবে জানতে পারেন, ‘আজকের দিনের সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় কোনটা ছিল?’

ঘুমের আগে ৭ মিনিট

ঘুমের আগের সময়টি অনেক শিশুর জন্য তুলনামূলক শান্ত হতে পারে। এই সময় পাশে বসে গল্প করা, দিনের কোনো ঘটনা নিয়ে কথা বলা কিংবা শুধু কিছুক্ষণ মনোযোগ দিয়ে শোনার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

বয়স অনুযায়ী সন্তান বন্ধুত্ব, স্কুলের সমস্যা, ভয়, আনন্দ কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের ভাবনার কথাও বলতে পারে।

সন্তানের জেদ দেখলে কী করবেন?

সন্তান জেদ করলে সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি বা চিৎকার না করে প্রথমে বোঝার চেষ্টা করুন, জেদের পেছনে কোনো আবেগ বা প্রয়োজন কাজ করছে কি না। ক্ষুধা, ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব, হতাশা কিংবা কোনো বিষয়ে অসন্তুষ্টি থেকেও শিশুর আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে।

এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের জেদ মেনে নিতে হবে। বরং ভালোবাসার সঙ্গে স্পষ্ট সীমা নির্ধারণ এবং সন্তানের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া—দুটিই একসঙ্গে প্রয়োজন।

২১ মিনিটই কি যথেষ্ট?

শুধু ২১ মিনিট সময় দিলেই সন্তানের আচরণ বদলে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সন্তানের বয়স, ব্যক্তিত্ব, পারিবারিক পরিবেশ এবং সমস্যার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।

তবে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু সময় মোবাইল, টেলিভিশন বা অন্য ব্যস্ততা সরিয়ে সন্তানের সঙ্গে মনোযোগ দিয়ে কথা বলার অভ্যাস সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময় কত মিনিট, তার চেয়ে সেই সময়ে বাবা-মা কতটা উপস্থিত থাকছেন। নিয়মিত মনোযোগ, সম্মান, ভালোবাসা এবং শোনার অভ্যাসই সন্তানের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সন্তান শিশুর জেদ জেদি সন্তান প্যারেন্টিং Parenting Tips শিশু লালন-পালন সন্তানের যত্ন

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!