যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৭ জুন ২০২৬,২ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রস্তাবিত বাজেট ‘ঋণনির্ভর ও উচ্চাভিলাষী’—কঠোর সমালোচনায় খেলাফত মজলিস

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০৬:১৭ PM

১৮
প্রস্তাবিত বাজেট ‘ঋণনির্ভর ও উচ্চাভিলাষী’—কঠোর সমালোচনায় খেলাফত মজলিস

খেলাফত মজলিসের লোগো। ছবিঃ সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘ঋণনির্ভর ও উচ্চাভিলাষী’ বলে মন্তব্য করেছে খেলাফত মজলিস। দলটির শীর্ষ নেতারা দাবি করেছেন, বিশাল ঘাটতি ও বৈদেশিক-দেশীয় ঋণের ওপর নির্ভরশীল এই বাজেট দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর ঋণের বোঝা বাড়াবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের এই প্রতিক্রিয়া জানান। তারা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে, যা পূরণ করতে সরকারকে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হবে। এতে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের মতে, এত বড় ঋণনির্ভর বাজেট বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

দলটির নেতারা অভিযোগ করেন, বাজেটের বড় অংশই পরিচালন ব্যয় ও ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে। এতে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রত্যাশিত গতি আসবে না বলেও তারা মত দেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুদ পরিশোধই বাজেটের অন্যতম বৃহৎ ব্যয় খাতে পরিণত হয়েছে, যা অর্থনৈতিক কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

খেলাফত মজলিস নেতারা আরও বলেন, সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার দাবি করলেও বাজেটে সেই লক্ষ্যের স্পষ্ট ও কার্যকর দিকনির্দেশনা নেই। একই সঙ্গে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও বাস্তবসম্মত নয় বলে তারা মন্তব্য করেন।

তবে কিছু উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে দলটি। তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ঋণ নির্ভরতা কমানোর কৌশলকে স্বাগত জানায়। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর রোডম্যাপ না থাকলে সুফল পাওয়া যাবে না বলেও সতর্ক করেছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে ঘুষ-দুর্নীতি দমন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং অর্থনৈতিক অপচয় রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে সরকার বাজেটকে উন্নয়নমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বললেও, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে ঋণনির্ভর ও বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সমালোচনা করছে। ফলে বাজেট ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে রাজস্ব আদায়, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবহারের দক্ষতার ওপর। অন্যথায় উচ্চ ঘাটতি ও সুদ ব্যয়ের চাপ অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। খেলাফত মজলিসের এই প্রতিক্রিয়া সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!