যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

ইনুর ১০ বছরের সাজা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রমাণিত ৩ অভিযোগের বিস্তারিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ PM ৭৯
ইনুর ১০ বছরের সাজা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রমাণিত ৩ অভিযোগের বিস্তারিত

জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও উসকানির মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ৫০০ পৃষ্ঠার রায়ের বিস্তারিত অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

এর আগে ৩০ জুন এই মামলায় ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষের আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটির জন্য ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাঁর মোট কারাভোগের মেয়াদ ১০ বছর।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে ইনুর বিরুদ্ধে করা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে নিপীড়ন ও গুরুতর জখম করার উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারকে ফোন করে তালিকা তৈরির মাধ্যমে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগে তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

৬ নম্বর অভিযোগটি ছিল ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে। এই অভিযোগেও ১০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

৭ নম্বর অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে দমনপীড়নের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এই অভিযোগেও ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের বাকি পাঁচটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারায় সেগুলো থেকে ইনুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এবং ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলের বৈঠকে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্ততার অভিযোগ।

এ ছাড়া আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার থেকে বোমা নিক্ষেপ বা ছত্রীসেনা ব্যবহারের পরিকল্পনা, হত্যাকাণ্ডের পক্ষে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ এবং ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা ও দেশজুড়ে ব্যাপক হতাহতের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রসিকিউশনের অসন্তোষের কথাও জানানো হয়েছে। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেছেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও একটি পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৩ সালে তথ্যমন্ত্রী থাকাকালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ওই মামলাটি করা হয়েছে।

হাসানুল হক ইনু

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!