সিরাজগঞ্জের ভদ্রঘাট পালপাড়ায় দুর্গাপ্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগরেরা ছবি: সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে এখন প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা তুঙ্গে। জেলার কামারখন্দ, উল্লাপাড়া, বেলকুচি, তাড়াশ ও রায়গঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় কারিগরেরা দিন-রাত কাজ করছেন। কোথাও প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ চলছে, আবার কোথাও মাটির প্রলেপ শেষ করে রং করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট পালপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, খড়, কাঠ, সুতা ও মাটি ব্যবহার করে দেবদেবীর প্রতিমার অবয়ব গড়ে তুলছেন কারিগরেরা। পরিবারের সদস্যদেরও কাজে যুক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। পুরুষ কারিগরদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছেন।
পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় নতুন অর্ডার নেওয়ার সুযোগও কমে এসেছে। কারিগরেরা বলছেন, এবার প্রতিমার চাহিদা গত বছরের তুলনায় বেশি। তবে একই সঙ্গে খরচ বেড়েছে। খড়, কাঠ, মাটি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে প্রতিমার বিক্রিমূল্য বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে প্রত্যাশিত আয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক কারিগর।
ভদ্রঘাট পালপাড়ার কারিগর দিলীপ পাল জানান, উপকরণের দাম ও প্রতিমার চাহিদা দুটোই বেড়েছে। তবে প্রতিমার দাম সেভাবে বাড়েনি। তার মতে, চলতি বছর আগের বছরের তুলনায় কাজের চাপ বেশি।
কারিগর শ্রীকান্ত পাল জানান, মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসের ব্যবহার কমে যাওয়ায় বছরের বড় একটি সময় তাদের তেমন কাজ থাকে না। দুর্গাপূজার মৌসুমে প্রতিমা তৈরির আয় দিয়েই কোনোভাবে সারা বছরের সংসার চালাতে হয়। এবার উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সেই আয়ও প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
শুধু প্রতিমা তৈরির পেশাজীবী নন, পরিবারের অন্য সদস্যরাও এই মৌসুমি কাজের ওপর নির্ভর করেন। কারিগর সুনিতা পাল বলেন, সাংসারিক কাজের পাশাপাশি প্রতিবছরের মতো এবারও প্রতিমা তৈরিতে যুক্ত হয়েছেন তারা। এই কাজ থেকে পাওয়া অর্থ ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা ও পরিবারের অন্যান্য ব্যয় মেটাতে কাজে লাগে।
ভদ্রঘাট পালপাড়ায় এ বছর দুই শতাধিক প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কারিগরেরা। স্থানীয় পূজামণ্ডপের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব প্রতিমা পাবনা, বগুড়া, নাটোর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে। প্রতিমার আকার, নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। কারিগর সঞ্জীব পালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে ১২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের প্রতিমা তৈরি হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা ব্রাহ্মণ সংসদের সভাপতি অশোক ব্যানার্জী জানিয়েছেন, আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পাঁচ দিনের আয়োজন শেষে ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে।
জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুকুমার চন্দ্র দাস জানান, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সঙ্গে মতবিনিময় করা হচ্ছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাশা, দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার বার্তা আরও জোরালো হবে। উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিমা তৈরির কাজও এখন শেষ পর্যায়ে এগিয়ে নিচ্ছেন সিরাজগঞ্জের কারিগরেরা।
শারদীয় দুর্গাপূজা সিরাজগঞ্জ
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!