বাজারে সরবরাহ বাড়ায় কাঁচা মরিচের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে পণ্যটির দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে কাঁচা মরিচের দামে এমন পরিবর্তন দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও একই পরিমাণ মরিচের দাম ছিল ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যে কেজিতে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারে সরবরাহ বাড়ার অন্যতম কারণ বিদেশ থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মরিচ উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকেও নতুন করে বিপুল পরিমাণ মরিচ পাইকারি বাজারে আসছে। এতে বাজারে সরবরাহ বেড়ে দাম কমেছে।
তালতলা বাজারের কাঁচা মরিচ বিক্রেতা জাহিদ বলেন, পাশের দেশ থেকে নিয়মিত কাঁচা মরিচ আসায় বাজারে সরবরাহের ঘাটতি নেই। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও মরিচ আসছে। ফলে আগের তুলনায় দাম অনেক কমেছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় কিছু এলাকায় মরিচের উৎপাদন ব্যাহত হলেও বর্তমানে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ আসায় বাজারে এর প্রভাব খুব বেশি নেই।
ক্রেতাদেরও দাম কমায় স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাসেল মিয়া বলেন, কাঁচা মরিচ প্রতিদিনের রান্নার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। কয়েক দিন আগেও দাম এত বেশি ছিল যে প্রয়োজন অনুযায়ী কেনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন দাম কমায় স্বাভাবিকভাবে কেনাকাটা করা যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কাঁচা মরিচসহ দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। উৎপাদনের মৌসুমে অতিরিক্ত সরবরাহ সংরক্ষণ করা গেলে বাজারে হঠাৎ দাম কমা বা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
তাদের মতে, দেশে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা গেলে আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও কমানো সম্ভব।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!