যুক্তরাষ্ট্র   বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১ আশ্বিন ১৪৩৩

এলসির সীমা ছাড়াই পণ্য আমদানির সুযোগ, বদলাচ্ছে আমদানি নীতি

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৭ PM ৫৬
এলসির সীমা ছাড়াই পণ্য আমদানির সুযোগ, বদলাচ্ছে আমদানি নীতি

নতুন আমদানি নীতি আদেশে এলসি ছাড়াও চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আনার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সরকার নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ জারি করেছে। নতুন নীতিতে ঋণপত্র বা এলসি ছাড়াও কোনো নির্দিষ্ট মূল্যসীমা না রেখে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানি প্রক্রিয়ায় বিকল্প অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থার সুযোগ আরও বাড়বে।

গত সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। নতুন নীতিতে ব্যবসা সহজীকরণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্পের কাঁচামালের সহজলভ্যতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪-এও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এলসি ছাড়া পণ্য আমদানির সুযোগ ছিল। তবে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য এ ধরনের আমদানিতে নির্দিষ্ট আর্থিক সীমা নির্ধারিত ছিল। নতুন নীতিতে সেই সীমা তুলে দিয়ে সেলস বা পারচেজ কনট্রাক্টের মাধ্যমে আমদানির সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় বিদেশি সরবরাহকারীর সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক চুক্তির ভিত্তিতে পণ্য আমদানি করা সহজ হবে। এতে আমদানির ক্ষেত্রে সময় ও ব্যাংকিং-সংক্রান্ত কিছু আনুষ্ঠানিকতা কমতে পারে। তবে এলসির বাইরে লেনদেন বাড়ার সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত মূল্য যাচাই, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং ওভার বা আন্ডার-ইনভয়েসিং ঠেকাতে নজরদারির প্রয়োজনও বাড়বে।

নতুন আমদানি নীতিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পণ্যের তালিকাও নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি নিয়ন্ত্রিত পণ্যের তালিকায় রাখা হয়েছে। একইভাবে ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেল আমদানিতেও বিশেষ বিধিনিষেধ থাকছে।

নতুন করে আমদানিনিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় সব ধরনের পুরোনো ইলেকট্রিক গাড়ি ও পুরোনো মোটরসাইকেল যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি শূকর ও শূকরজাত পণ্যের আমদানিও নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহারের জন্য মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ রয়েছে।

নতুন নীতিতে ফ্রি ট্রেড জোন ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য, লজিস্টিকস ও পুনঃরপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকেও আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্প বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে নতুন নীতিতে বিশেষ সুবিধার কথাও বলা হয়েছে। অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রবাসীদের মূলধনি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত অর্থ পরিশোধ পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টিও নীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রপ্তানিমুখী শিল্পে কাঁচামাল আমদানির সুবিধাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনা মূল্যে বা ‘ফ্রি অব কস্ট’ ভিত্তিতে কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আমদানি প্রক্রিয়ায় পণ্যের এইচএস কোড ও বর্ণনার মধ্যে অসামঞ্জস্যের কারণে দীর্ঘদিনের জটিলতা কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস ও আমদানি প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট করার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ও হয়রানি কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

সব মিলিয়ে নতুন আমদানি নীতিতে এলসি-নির্ভরতা কমিয়ে আমদানি ব্যবস্থাকে আরও নমনীয় ও চুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি অর্থায়ন, রপ্তানি, বিনিয়োগ, লজিস্টিকস ও পুনঃরপ্তানিকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ, সেপা, ইপিএসহ বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। নতুন আমদানি নীতিতে এসব আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে ভবিষ্যতে আমদানি ব্যবস্থাকে সমন্বয় করার সুযোগও রাখা হয়েছে। ২০২১-২০২৪ আমদানি নীতির মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩০ জুন শেষ হলেও নতুন আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত আগের নীতিই কার্যকর ছিল। এবার ২০২৬-২০২৯ মেয়াদের নতুন নীতির মাধ্যমে আমদানি কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলো।

এলসি আমদানি

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!