বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর। ছবি: সংগৃহীত
বলিউডে অভিনয়ের ক্ষেত্রে নানা পাটেকরের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চরিত্রের বৈচিত্র্য। একই ধরনের ভূমিকায় আটকে না থেকে তিনি কখনো হয়েছেন প্রতিবাদী যুবক, কখনো পুলিশের কর্মকর্তা, আবার কখনো অপরাধজগতের প্রভাবশালী ব্যক্তি। কমেডি চরিত্রেও তাঁর অভিনয় দর্শকদের আলাদা করে আনন্দ দিয়েছে।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা পাটেকরের ঝুলিতে রয়েছে বহু প্রশংসিত সিনেমা। এর মধ্যে কয়েকটি চলচ্চিত্র তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
‘পরিন্দা’ (১৯৮৯)
মুম্বাইয়ের অপরাধজগতের অন্ধকার বাস্তবতা নিয়ে নির্মিত ‘পরিন্দা’ নানা পাটেকরের ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত সিনেমা। বিধু বিনোদ চোপড়ার পরিচালনায় নির্মিত এই ক্রাইম ড্রামায় তাঁর তীব্র অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল।
‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ (১৯৯১)
সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাও করেন নানা পাটেকর। সেনা কর্মকর্তার চরিত্রে তাঁর অভিনয় ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল।
‘ক্রান্তিবীর’ (১৯৯৪)
নানা পাটেকরের ক্যারিয়ারের অন্যতম সাফল্য ‘ক্রান্তিবীর’। বিপথগামী এক যুবকের জীবনের পরিবর্তন এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের গল্পে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। এই সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পান তিনি।
‘অগ্নিসাক্ষী’ (১৯৯৬)
‘অগ্নিসাক্ষী’তে দর্শক নানা পাটেকরের ভিন্ন এক রূপ দেখেন। ভয়ংকর ও মানসিকভাবে জটিল এক স্বামীর চরিত্রে তাঁর অভিনয় সিনেমাটির গল্পকে আরও গভীরতা দেয়।
‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ (১৯৯৬)
সঞ্জয় লীলা বানসালির এই সিনেমায় নানা পাটেকর অভিনয় করেন শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী এক বাবার চরিত্রে। কথা বলার সুযোগ না থাকলেও চোখের অভিব্যক্তি ও শরীরী ভাষার মাধ্যমে চরিত্রটির আবেগ ফুটিয়ে তোলেন তিনি।
‘অব তক ছাপ্পান’ (২০০৪)
মুম্বাই পুলিশের একজন এনকাউন্টার স্পেশালিস্টের ভূমিকায় দেখা যায় নানা পাটেকরকে। বাস্তবধর্মী কাহিনি এবং তাঁর সংযত অভিনয় ‘অব তক ছাপ্পান’কে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর একটি করে তুলেছে।
‘আপহরণ’ (২০০৫)
প্রকাশ ঝায়ের রাজনৈতিক ক্রাইম ড্রামা ‘আপহরণ’-এ নানা পাটেকরের চরিত্র ছিল ক্ষমতাধর ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। রাজনীতি ও অপরাধের যোগসূত্রের গল্পে তাঁর অভিনয় ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
‘ওয়েলকাম’ (২০০৭)
গুরুগম্ভীর চরিত্রের পাশাপাশি হাস্যরসাত্মক ভূমিকাতেও নানা পাটেকরের জনপ্রিয়তা রয়েছে। ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় উদয় শেঠি চরিত্রে তাঁর অভিনয়, সংলাপ ও অভিব্যক্তি দর্শকদের ব্যাপক বিনোদন দেয়। অক্ষয় কুমারের সঙ্গে তাঁর পর্দার রসায়নও ছিল সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ।
‘রাজনীতি’ (২০১০)
প্রকাশ ঝায়ের আরেক রাজনৈতিক সিনেমা ‘রাজনীতি’। বড় তারকাদের সমন্বয়ে নির্মিত এই ছবিতে নানা পাটেকর অভিনয় করেন গুরুত্বপূর্ণ এক রাজনৈতিক চরিত্রে। ক্ষমতা ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের কাহিনিতে তাঁর উপস্থিতি আলাদা করে নজর কাড়ে।
‘নটসম্রাট’ (২০১৬)
মারাঠি ভাষার ‘নটসম্রাট’ নানা পাটেকরের অভিনয়জীবনের অন্যতম আবেগঘন কাজ। অবসর নেওয়া এক কিংবদন্তি মঞ্চ অভিনেতার চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। জীবনের শেষ পর্যায়ের নিঃসঙ্গতা, সম্পর্ক ও আবেগের টানাপোড়েন তাঁর অভিনয়ে শক্তিশালীভাবে ফুটে ওঠে।
নানা পাটেকরের অভিনয়ের বৈচিত্র্যই তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। একই অভিনেতাকে যেমন ‘পরিন্দা’ বা ‘অব তক ছাপ্পান’-এর মতো গম্ভীর চরিত্রে দেখা গেছে, তেমনি ‘ওয়েলকাম’-এর মতো কমেডি সিনেমাতেও তিনি দর্শকদের হাসিয়েছেন।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!