যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬,১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইরানকে ঘিরে নৌ অবরোধ জোরদার যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা হামলার দাবি তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ AM

ইরানকে ঘিরে নৌ অবরোধ জোরদার যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা হামলার দাবি তেহরানের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা নবম দিনের মতো উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরও কঠোর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ চলাচল সীমিত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ইরানের বন্দরে প্রবেশ বা বন্দর ত্যাগ করতে যাওয়া সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একটি জাহাজকে অচল করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সেন্টকম জানিয়েছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ স্থাপনা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা এবং অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মার্কাজি প্রদেশের খোমেইন এবং শিরাজের উপকণ্ঠে নতুন করে মার্কিন বিমান হামলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২৭ জুন থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় এখন পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি নিহত এবং অন্তত ৫১৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছেন।

এদিকে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, বাহরাইনের সাখির বিমানঘাঁটির মার্কিন ড্রোন রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, সালমান বন্দরের টিএফ-৫৯ নৌ অবকাঠামো এবং কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে অবস্থিত মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সহায়তা কেন্দ্র লক্ষ্য করে নতুন দফায় প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

সংঘাতের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী দেশ জর্ডানেও। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেত্রার তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো সফলভাবে ভূপাতিত করে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের হামলায় যদি আরও কোনো মার্কিন সেনা নিহত হন, তাহলে তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও ব্যাপক সামরিক জবাব দেওয়া হবে। তিনি যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইন এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক কমান্ডারদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সেন্টকম ও বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে জর্ডানে ইরানি হামলায় দুজন এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরানি ড্রোন থেকে উদ্ধার করা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার সময় একজন সেনা প্রাণ হারান। সংঘাত অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!