হবিগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ১৪৪ ধারা জারি। ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে পুরো পৌর এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (২৯ জুলাই) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।
জেলা প্রশাসনের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, একই দিন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথসভার ঘোষণা দেয়। একই সময় ও একই স্থানে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদলও প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেয়। উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা প্রতিরোধে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এর আওতায় হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, জনসভা, মিছিল, স্লোগান, পিকেটিং, মাইকিং, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে এনসিপি। দলটির দপ্তর সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হবিগঞ্জে দলটির শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে ২৯ জুলাই দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দলের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা কমিটিকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনসিপির অভিযোগ, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর সংঘটিত হামলা পরিকল্পিত এবং এর সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার সময় এনসিপির শীর্ষ নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক ও দলটির নেতাকর্মী আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর থেকেই হবিগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সকল রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণকে ১৪৪ ধারার নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!