যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬,১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

বেবি পাউডার মামলায় ৫৫০ কোটি ডলারের সমঝোতা চায় জনসন অ্যান্ড জনসন

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৭ PM

বেবি পাউডার মামলায় ৫৫০ কোটি ডলারের সমঝোতা চায় জনসন অ্যান্ড জনসন

ছবি : সংগৃহীত

বেবি পাউডারে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দায়ের হওয়া হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তিতে ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার (৫.৫ বিলিয়ন ডলার) ব্যয়ে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন (জেঅ্যান্ডজে)।

সোমবার (২৭ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৬৯ হাজার মামলা নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে ট্যাল্ক–সংক্রান্ত মোট বিচারাধীন মামলার প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ মীমাংসার আওতায় আসতে পারে।

তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সমঝোতা কার্যকর হবে তখনই, যখন ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য আদালতের অন্তত ৯৫ শতাংশ মামলাকারী এই প্রস্তাবে সম্মতি দেবেন।

জনসন অ্যান্ড জনসনের মামলাবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা এরিক হাস বলেন, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতের কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে পারবে।

বাদীপক্ষের আইনজীবীরাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের একটি কার্যকর সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে এই সমঝোতা।

ট্যাল্ক একটি প্রাকৃতিক নরম খনিজ, যা একসময় বেবি পাউডার ও বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্যের প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে ট্যাল্ক ব্যবহারের সঙ্গে ক্যানসারের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

যদিও জনসন অ্যান্ড জনসন বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ট্যাল্কভিত্তিক পণ্য ক্যানসার সৃষ্টি করে—এমন বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তারপরও প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে দেয়।

এরই মধ্যে ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ট্যাল্ককে মানুষের জন্য সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী (Probably Carcinogenic) উপাদান হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছে, যা এ বিতর্ককে আরও গুরুত্ব দিয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!