যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬,১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার প্রস্তাব ওমানের, কী আছে নতুন পরিকল্পনায়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৫ PM

হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার প্রস্তাব ওমানের, কী আছে নতুন পরিকল্পনায়?

ছবি : সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ওমান। আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রণালিটি যৌথভাবে পরিচালনার প্রস্তাব ইতোমধ্যে ইরানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি গত সপ্তাহান্তে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া হয়। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের সমর্থন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

ওমানের প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কোনো একক দেশের হাতে থাকবে না। বরং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি যৌথ ব্যবস্থাপনা কাঠামোর মাধ্যমে এই কৌশলগত জলপথ পরিচালনা করা হবে।

পরিকল্পনাটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালাক্কা প্রণালির ব্যবস্থাপনা মডেল অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে মালাক্কা প্রণালি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর যৌথভাবে পরিচালনা করে থাকে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলো স্বেচ্ছাভিত্তিতে একটি তহবিলে অর্থ প্রদান করবে। ওই অর্থ নৌ-চলাচল ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সেবামূলক কাজে ব্যয় করা হবে।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে আসছে। ফলে এই জলপথের নিরাপত্তা ও পরিচালনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ইরান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় অবাধ নৌ-চলাচলের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো স্পষ্ট করেছে, ইরানকে কোনো বাধ্যতামূলক ফি পরিশোধের ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করবে না।

এদিকে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওমান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং একটি সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!