যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

কানাডীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে বললেন ট্রাম্প, শুল্ক ছাড়ের আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৬ PM ৪৫
কানাডীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে বললেন ট্রাম্প, শুল্ক ছাড়ের আশ্বাস

কানাডীয় কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও উৎপাদন কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে সদর দপ্তর ও উৎপাদন কার্যক্রম স্থানান্তর করলে কানাডীয় কোম্পানিগুলোকে নতুন শুল্ক দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে ব্যবসা পরিচালনা করলে কানাডীয় কোম্পানিগুলো নতুন করে আরোপিত শুল্কের চাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।

কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন আহ্বান এলো। সম্প্রতি কানাডার দুগ্ধপণ্য, কাঠসহ কয়েকটি পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে কানাডা।

অন্য একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম খারাপ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে কানাডার গাড়ি, গাড়ির যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কয়েক দশক ধরে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে অন্যায্য সুবিধা নিয়ে আসছে—এমন অভিযোগও করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরিমাণ ট্রাম্পের বক্তব্যের তুলনায় বেশ বিস্তৃত। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে। ফলে নতুন শুল্ক ও পাল্টা শুল্কের কারণে উভয় দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির সমালোচনা করেছেন কানাডার রাজনৈতিক নেতারাও। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সতর্ক করে বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য সংঘাত উভয় দেশের অর্থনীতির জন্যই বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও কানাডাকে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কোনো বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিলে ওয়াশিংটনও তার জবাব দেবে। ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!