যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ৭ বছর পর ভারতে যাচ্ছেন শি চিনপিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ AM | সর্বশেষ আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ AM ৬০
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ৭ বছর পর ভারতে যাচ্ছেন শি চিনপিং

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের ভারত সফরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সফরের তথ্য জানিয়েছে।

ভারতে শি চিনপিংয়ের সর্বশেষ সফর হয়েছিল ২০১৯ সালে। সে সময় চেন্নাইয়ের কাছে মামাল্লাপুরমে মোদির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন তিনি। এরপর এটিই হবে তার প্রথম ভারত সফর।

২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কের বড় ধরনের অবনতি হয়। ওই ঘটনায় ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। চীনের পক্ষ থেকে নিহত সেনার সঠিক সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত বছর মোদির চীন সফরের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে। চলতি মাসে কিরগিজস্তানে একটি আঞ্চলিক ফোরামেও মোদি ও শির সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়েছে।

সীমান্ত উত্তেজনার পর ভারত চীনা বিনিয়োগের ওপর যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, তার কিছু অংশ ধীরে ধীরে শিথিল করেছে। ইলেকট্রনিকস, মূলধনী পণ্য ও সোলার সেলসহ কয়েকটি খাতে চীনা বিনিয়োগের বিষয়টি এতে গুরুত্ব পেয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, শি ও মোদি দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, ভারত ও চীন একে অপরের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে সম্পর্কের উন্নতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে চীনা কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেইজিংও আরও কঠোর যাচাই-বাছাই করছে। বিশেষ করে উচ্চপ্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক উৎপাদন খাতের বিনিয়োগে এ নজরদারি বেশি।

এর মধ্যেও ভারত-চীন বাণিজ্য বাড়ছে। চীনা কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দুই দেশের বাণিজ্য ১২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ১০ বছর আগে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও দুই দেশের বাণিজ্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে। ফলে সীমান্ত ও কৌশলগত মতপার্থক্য বজায় থাকলেও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বও বাড়ছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!