যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানকে স্যাটেলাইট তথ্য দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার চীনের, প্রতিবেদন উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৬ PM ৪৩
ইরানকে স্যাটেলাইট তথ্য দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার চীনের, প্রতিবেদন উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

ইরানকে সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহে চীনা কোনো প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল—এমন সংবাদকে গুরুত্ব দিতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনার ছবি তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পকে বলা হয়, চীন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছে। জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও চীনের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে। পরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তৎপরতার তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, বেইজিংও মূলত একই ধরনের কাজ করে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পরদিন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের হামলার আগে ও পরে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তেহরানকে সরবরাহ করেছিল।

প্রতিবেদনটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের নানা ইস্যুতে টানাপোড়েন রয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সফরের আগে স্যাটেলাইট তথ্য নিয়ে অভিযোগ নতুন করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

গত ১৭ জুলাই জর্ডানে অবস্থিত মুয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর তিন সদস্য নিহত হন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করা হলেও, স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহে কোন কোন চীনা প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তারা সরাসরি বেইজিংকে দায়ী করেননি।

শুক্রবার রাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তারা স্যাটেলাইট ছবি হস্তান্তরের বিষয়ে চীনা কর্মকর্তাদের কাছে প্রমাণ উপস্থাপনের দাবি জানান। জবাবে চীনের কর্মকর্তারা সেই প্রমাণ দেখতে চান এবং তেহরানকে ছবি দেওয়ার ঘটনায় কোনো চীনা কোম্পানির সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেননি।

এর আগে ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি না করতে চীনকে সতর্ক করেছিলেন ট্রাম্প। গত মে মাসে ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনায় সহায়তার অভিযোগে চীনে থাকা তিনটি স্যাটেলাইট কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন।

অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার চীন। দেশটি ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে। পাশাপাশি তেহরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমর্থক হিসেবেও বেইজিংয়ের ভূমিকা রয়েছে।

তবে সি চিনপিংয়ের আচরণ নিয়ে রোববার ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, চীনা প্রেসিডেন্ট যুক্তিসংগত আচরণ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রও একইভাবে যুক্তিসংগত আচরণ করে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ি বিক্রির অনুমতি ভবিষ্যতে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন অনুমতি দেননি। বরং শুল্কের কারণেই চীনা গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের বাইরে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!