যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর ২০২৬,২০ আশ্বিন ১৪৩৩

তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর নতুন নাম-প্রতীক, সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ PM ৪৫
তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর নতুন নাম-প্রতীক, সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়; সংগৃহীত ছবি

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক বিরোধ এবার নির্বাচনী পরিচয়েও প্রভাব ফেলেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন শুক্রবার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর জন্য আলাদা নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশ পেয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক। অন্যদিকে অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক।

এই পরিবর্তন আপাতত স্থায়ী নয়। দলটির নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন পরিচয় ও প্রতীকের এই ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি মেঘালয় ও ত্রিপুরায়ও দুই গোষ্ঠীকে স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের প্রচলিত ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীকের ব্যবহার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে দুই পক্ষকে বিকল্প তিনটি করে নাম ও অবাধ প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলা হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার নতুন পরিচয় নির্ধারণ করা হয়।

আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরসহ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভোট গণনা হবে ৯ অক্টোবর। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই নির্বাচনে দুই পক্ষের প্রার্থীরা নতুন বরাদ্দ করা দলীয় নাম ও প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

কমিশনের এই ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়া সচল রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে। কারণ দলটির সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। কোন গোষ্ঠী মূল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করবে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বাকি।

বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে দলের সাংগঠনিক কর্তৃত্ব, ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটির বৈধতা এবং বিভিন্ন পদে নিয়োগের প্রশ্ন। অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন অংশের সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীরও সম্পর্ক রয়েছে। এই পক্ষের দাবি, তৃণমূলের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে।

অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের সাংগঠনিক পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলের সংবিধানে সংশোধনের মাধ্যমে ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি ও অন্যান্য সাংগঠনিক সংস্থার মেয়াদ তিন বছর থেকে পাঁচ বছর করা হয়েছে। তবে অপর পক্ষ এই সংশোধনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মূল বিরোধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ‘Election Symbols (Reservation & Allotment) Order, 1968’-এর ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় নেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই গোষ্ঠী আলাদা নাম ও প্রতীকে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাবে।

ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীকের পরিবর্তে ভোটারদের সামনে থাকবে দুই ভিন্ন নাম ও প্রতীক। তবে কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত মূল দলের স্বীকৃতি পাবে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!