যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর ২০২৬,২০ আশ্বিন ১৪৩৩

নরইস্টারের তাণ্ডবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল বিপর্যস্ত, নিহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩২ PM ৪৫
নরইস্টারের তাণ্ডবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল বিপর্যস্ত, নিহত ১

নরইস্টার ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ‘নরইস্টার’ ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিউইয়র্ক, বোস্টন ও ফিলাডেলফিয়াসহ পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টি, প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউ আঘাত হানে। এতে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, কয়েক দিন পূর্ব উপকূলে অবস্থানের পর রোববার সন্ধ্যার দিকে ঝড়টির তীব্রতা কমতে শুরু করে। এর কেন্দ্র নিউ জার্সির উপকূলের কাছাকাছি থাকলেও ঝড়ের মেঘ ও বৃষ্টির বিস্তার নিউ ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

ঝড়ের সবচেয়ে তীব্র সময়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার বা ৮১ মাইল পর্যন্ত উঠেছিল। পরে তা কমে ঘণ্টায় প্রায় ৭২ কিলোমিটারে নেমে আসে। দুর্যোগের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার নিউইয়র্ক শহরের একটি পার্কিং এলাকায় হাঁটার সময় গাছ ভেঙে পড়ে আবাসন কর্তৃপক্ষের এক কর্মী নিহত হন। একই সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

ঝড়ের প্রভাব পড়ে উত্তর ক্যারোলিনার উপকূলীয় এলাকাতেও। সেখানকার দ্বীপগুলোর ওপর দিয়ে যাওয়া ‘হাইওয়ে ১২’-এর একটি বড় অংশ পানির স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়কের পিচ উঠে যাওয়ায় কয়েকটি দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের নৌকায় চলাচল করতে দেখা যায়।

নরইস্টারের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচলও বড় ধরনের বিঘ্নের মুখে পড়ে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং প্রায় ৬ হাজার ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন বা বিলম্ব ঘটেছে।

বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিস্থিতি ছিল আরও জটিল। সেখানে নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় এক-চতুর্থাংশ, অর্থাৎ ১৭২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। নানটাকেট ও মার্থাস ভিনইয়ার্ডের স্থানীয় বিমানবন্দরগুলোতেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!