ছবি:সংগৃহীত
ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন। দেশটির জ্বালানি খাতে সংকট ও নানা চাপের মধ্যে তাঁর পদত্যাগের পর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির (এনআইওসি) প্রধান নির্বাহী হামিদ বোভার্ডকে ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয় পাকনেজাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা শানা জানিয়েছে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কিছুদিন আগে পদ ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন পাকনেজাদ। শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ইরানের তেলমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
পাকনেজাদের স্থলাভিষিক্ত হওয়া হামিদ বোভার্ডের বয়স ৬২ বছর। ২০২৪ সাল থেকে তিনি এনআইওসির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ন্যাশনাল ইরানিয়ান সাউথ অয়েল কোম্পানি এবং ইরানিয়ান অফশোর অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন। স্থায়ীভাবে নতুন তেলমন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে ইরানের জ্বালানি খাত বর্তমানে ব্যাপক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি, তেল পরিবহনে বিধিনিষেধ এবং রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির জ্বালানি খাতে চাপ বেড়েছে। অপরিশোধিত তেল পরিবহন ও তেল বিক্রি থেকে রাজস্ব আদায়েও সংকট তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যে গত ৭ সেপ্টেম্বর ভর্তুকির নির্ধারিত সীমার বেশি পেট্রল ব্যবহারের ক্ষেত্রে দাম বাড়িয়েছে ইরান সরকার। মাসে ১১০ লিটারের বেশি পেট্রল কিনলে প্রতি লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ রিয়াল। দৈনিক প্রায় ১ কোটি লিটার পেট্রলের ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার এই পদক্ষেপ নেয় বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ইরানে প্রতি মাসে প্রথম ১১০ লিটার পেট্রল ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ৬০ লিটারের প্রতি লিটারের দাম ১৫ হাজার রিয়াল এবং পরবর্তী ৫০ লিটারের দাম ৩০ হাজার রিয়াল।
জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর আগে পাকনেজাদ জানিয়েছিলেন, অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে দেশটির গ্যাস উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ঘনমিটার কমে গেছে।
ইরানের জ্বালানি খাতে চলমান সংকটের মধ্যেই তেলমন্ত্রীর পদত্যাগ দেশটির অর্থনীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইরানে জ্বালানি সংকট মোহসেন পাকনেজাদ
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!