যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বিকেলের ঘুম কি সত্যিই ক্ষতিকর? জানুন উপকার ও ঝুঁকি

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ PM | সর্বশেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৯ PM ৪৯
বিকেলের ঘুম কি সত্যিই ক্ষতিকর? জানুন উপকার ও ঝুঁকি

দিনের বেলায় অল্প সময়ের ঘুম শরীর ও মস্তিষ্ককে সতেজ করতে পারে। ছবি: প্রতীকী

দুপুরের খাবারের পর কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যেই রয়েছে। কেউ এতে স্বস্তি ও সতেজতা অনুভব করেন, আবার কারও ক্ষেত্রে দিনের ঘুম রাতে ঘুমানোর স্বাভাবিক সময়কে প্রভাবিত করে। তাই বিকেলে ঘুমানো আদৌ ভালো না খারাপ—এর উত্তর নির্ভর করে ঘুমের সময়, স্থায়িত্ব এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবেদ হোসেন খান বলেন, দিনের বেলায় অল্প সময়ের ঘুম মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ছোট একটি ন্যাপ শেখা, চিন্তাভাবনা ও কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে উপকারী হতে পারে।

২০২১ সালে প্রকাশিত ১১টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় ২০ থেকে ৭৩ বছর বয়সীদের দিনের স্বল্পমেয়াদি ঘুমের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ছোট ন্যাপ কগনিটিভ কার্যক্রম, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পরও এর কিছু উপকার অন্তত দুই ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ অনেকের জন্য কার্যকর হতে পারে। এ ধরনের স্বল্প সময়ের ঘুম মেজাজ ভালো রাখা, মনোযোগ, প্রতিক্রিয়ার গতি, স্বল্পমেয়াদি স্মৃতি ও একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

সময় খুব কম থাকলে ৫ থেকে ১০ মিনিট চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নেওয়াও ঘুমঘুম ভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে ব্যস্ত কর্মজীবীদের জন্য প্রায় ১৫ মিনিটের ছোট ন্যাপও কিছুটা সতেজতা এনে দিতে পারে।

তবে সব ক্ষেত্রে একই সময়ের ন্যাপ উপযুক্ত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ৬০ মিনিট ঘুমালে শরীর ও মস্তিষ্ক তুলনামূলক গভীর বিশ্রাম পেতে পারে। আবার প্রায় ৯০ মিনিটের ন্যাপকে পূর্ণ ঘুমের একটি চক্র হিসেবে ধরা হয়, যা শারীরিক কর্মক্ষমতা ও মানসিক অবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ন্যাপ নেওয়ার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত সকালে ঘুম থেকে ওঠার ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর, অর্থাৎ দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে ঘুমানো দিনের ঘুমের জন্য উপযোগী সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে বিকেলে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর অভ্যাস রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় দিনের বেলায় ঘুমালে রাতে স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অতিরিক্ত ঘুম ও রাতে জেগে থাকার অভ্যাস স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু ঘুমের সময় নয়, খাবারের পর কখন শোয়া হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই বিছানায় চলে গেলে পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরে উঠে বুক বা গলায় জ্বালাপোড়া এবং অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এ থেকে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যাও হতে পারে।

তাই দুপুরের খাবারের পর সঙ্গে সঙ্গে না শুয়ে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দিনের ঘুমকে দীর্ঘ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী স্বল্প সময়ের ন্যাপ নেওয়াই অধিক উপযোগী হতে পারে।

দুপুরের ঘুম পাওয়ার ন্যাপ বিকেলে ঘুম ঘুমের স্বাস্থ্য স্মৃতিশক্তি স্বাস্থ্য টিপস স্বাস্থ্য সচেতনতা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!