ছবি: সংগৃহীত
ফ্যামিলি কার্ডের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় যখন ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা হয়েছিল, তখন যারা ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ ছিলেন, তারা এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিলেন। পরে বিএনপি সরকারে এসে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির প্রস্তাবিত ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের ত্যাগের কথা তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, তাদের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে। এই বাংলাদেশ নিয়ে কোনো ধরনের ছেলেখেলা করা যাবে না এবং ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসার সুযোগও তৈরি করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, দেশে ফ্যাসিস্টদের বিচার হবে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আইনের মাধ্যমে করা হবে। এই বিচার কোনো গোপন প্রক্রিয়ায় হবে না, বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। বিচারে এমন শক্ত প্রমাণ উপস্থাপনের চেষ্টা করা হবে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গ্রহণযোগ্য হয়।
আইনজীবীদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির বারের সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং বই কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রমেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। দেশে এখনো নানা সংকট রয়েছে এবং সেগুলো সমাধানে কাজ চলছে। তবে মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ সরকার যতটা সম্ভব দেরিতে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গ তুলে আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে বিএনপি করার কারণে ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছিল। এসব মামলায় এমন ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছিল, যারা বহু বছর আগে মারা গেছেন। এমনকি হজরত অবস্থায় পবিত্র কাবা শরিফে থাকা একজন ব্যক্তিকেও ঢাকায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় আসামি করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সময় এক নেত্রী আপস করে দেশ ছেড়েছিলেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বাংলাদেশ ছেড়ে যাননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, বিএনপির রাজনীতি দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আসাদুজ্জামান আরও বলেন, বিএনপির নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ ও নৈরাজ্যবাদের প্রভাব থেকে মুক্ত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরওয়ারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা।
ফ্যামিলি কার্ড আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!