যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২ আশ্বিন ১৪৩৩

মূল সড়কে বসতে পারবেন না হকার, নীতিমালা মেনে হবে পুনর্বাসন: ডিএসসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১০ PM ৪৬
মূল সড়কে বসতে পারবেন না হকার, নীতিমালা মেনে হবে পুনর্বাসন: ডিএসসিসি প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং হকারদের জন্য সুশৃঙ্খল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে হকার ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। নীতিমালা অনুযায়ী মূল সড়কে কোনো হকারকে বসতে দেওয়া হবে না। নির্ধারিত স্থান ও সময়ে নিবন্ধিত হকাররা ব্যবসা করতে পারবেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি নগর ভবন অডিটোরিয়ামে হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরের নাগরিক সুবিধা ও পথচারীদের চলাচল নিশ্চিত করতে সুশৃঙ্খল হকার ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। তবে হকারদের জীবিকা বন্ধ করারও উদ্দেশ্য নেই। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সব ভাসমান মানুষকে ঢাকায় হকার হিসেবে পুনর্বাসন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যাটির সমাধান সম্ভব। নির্ধারিত ফি দিয়ে নিবন্ধন, নিয়মিত নবায়ন এবং নির্দিষ্ট সড়ক ও সময়ে ব্যবসা পরিচালনার নিয়ম মানতে হবে।

মূল সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না জানিয়ে প্রশাসক বলেন, যেসব সড়কে পর্যাপ্ত প্রশস্ত ফুটপাত রয়েছে, সেখানে পথচারীদের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা উন্মুক্ত রেখে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিবন্ধিত হকারকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে। অন্য হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট ও নৈশকালীন মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী ডিএসসিসি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় হকারদের নিবন্ধন, স্থান ব্যবহারের নিয়ম, ফি এবং ব্যবসার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, এককালীন নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্থান ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা দিতে হবে।

নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। নিবন্ধিত হকারদের ব্যবসার স্থান ও সময় উল্লেখ করে বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা রয়েছে।

নীতিমালায় শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে হলিডে মার্কেট পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস সময় শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নৈশকালীন মার্কেট পরিচালনা করা যাবে। তবে মাঠ, উপাসনালয় ও কবরস্থানে এ ধরনের মার্কেট বসানো যাবে না।

হকারদের স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাথে কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ মিটার বা প্রায় ৫ ফুট জায়গা খালি রাখতে হবে। কোনো স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা যাবে না।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও হকারদের নিজ নিজ ব্যবসার স্থান পরিষ্কার রাখা এবং নির্ধারিত বিনে বর্জ্য ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করা কিংবা নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলে উচ্ছেদ এবং নিবন্ধন বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সভায় ডিএসসিসি ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!