যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

সীমান্ত নজরদারিতে ড্রোন ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ PM ৬৪
সীমান্ত নজরদারিতে ড্রোন ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

দুর্গম ও বনাঞ্চলঘেরা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদারে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। নাইট ভিশন ও থার্মাল প্রযুক্তিসংবলিত ড্রোনের মাধ্যমে রাতেও সীমান্তের বিভিন্ন তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সেক্টর সদর দপ্তরে ‘ (এসএসএসডিডব্লিউ)’ উদ্বোধন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, যেসব সীমান্ত এলাকায় সরাসরি জনবল দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা কঠিন, সেখানে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। থার্মাল প্রযুক্তির সাহায্যে সীমান্তের ওপারের বিভিন্ন তৎপরতা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পাচারের সম্ভাব্য পথ শনাক্ত করাও সহজ হবে বলে জানান তিনি।

সীমান্ত নিরাপত্তার বাইরেও দুর্যোগ মোকাবিলায় ড্রোন ব্যবহারের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজে সম্প্রতি বিজিবি ড্রোন ব্যবহার করেছে।

নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বর্তমানে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন পরিচালনাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে বেসামরিক জনবলকেও আধুনিক প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় প্রশিক্ষিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটিতে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মাদক মামলার প্রসিকিউশন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে সময়োপযোগী করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে ল্যাবরেটরি, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্র সংযোজনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির জন্য ‘মব’ তৈরির যেকোনো চেষ্টা প্রচলিত আইনে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ও সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা হয়। পরে তিনি ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন এবং বিজিবির পরিচালিত বাস্তবভিত্তিক অপারেশনাল মহড়া ও ড্রোন প্রদর্শনী দেখেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!