যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফুলবাড়ীর কয়লা উত্তোলন বিবেচনায় সরকার, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১ PM | সর্বশেষ আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৫ PM ৫৮
ফুলবাড়ীর কয়লা উত্তোলন বিবেচনায় সরকার, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস

ছবি: সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং আমদানি ব্যয় কমাতে ফুলবাড়ীর উচ্চমানের কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার আগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও জীবিকা সুরক্ষার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফুলবাড়ীর কয়লা মানের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম উন্নতমানের কয়লা। এটি উত্তোলন করে দেশের জ্বালানি চাহিদার একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব হলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে।

তবে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো প্রকল্প নেওয়ার আগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বার্থ ও জীবিকার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।

উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন হলে কৃষিজমি ও বসতিতে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এ বিষয়টিও স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে কীভাবে যথাযথভাবে পুনর্বাসন করা যায়, তা আগে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

একই সঙ্গে প্রকল্পের কারণে স্থানীয় মানুষের আয় ও জীবিকা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণ কীভাবে এর সুফল পেতে পারেন, সেই বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহার ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সম্ভাব্য পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তাঁর বক্তব্যে কৃষিজমি, বসতি, ভূগর্ভস্থ পানি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়গুলো উঠে আসে। ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য কৃষিজমি নষ্ট, মানুষের বাস্তুচ্যুতি কিংবা দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ক্ষতি গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার আগে ব্যাপক পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বুলবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ভূমিকা রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে একটি মাত্র জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল না থেকে কয়লা, গ্যাস, এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন অবকাঠামোর সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। উৎপাদন, আমদানি, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে স্থিতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফুলবাড়ীসহ দেশের যেকোনো এলাকায় কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!