যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

সুপ্রিম কোর্ট দুর্নীতিমুক্ত করতে এক মাসের সময় বেঁধে দিলেন বার সভাপতি খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ PM ৭৪
সুপ্রিম কোর্ট দুর্নীতিমুক্ত করতে এক মাসের সময় বেঁধে দিলেন বার সভাপতি খোকন

ছবি:সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালতে দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে থাকা ‘বস্তি’ উচ্ছেদ এবং আইনজীবীদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব দাবি জানান মাহবুব উদ্দিন খোকন।

তিনি বলেন, মামলা তদবির, মামলাকে কার্যতালিকায় তোলা এবং শুনানির বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিচার বিভাগীয় কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি।

খোকনের ভাষ্য, আপিল বিভাগ, হাই কোর্ট বিভাগসহ দেশের সব আদালতে দুর্নীতি বন্ধে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে আসেন। সেখানে মামলা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ দিতে হলে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া বিচারপতিদের নিয়েও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি। তার অভিযোগ, ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া কিছু বিচারপতির আচরণ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ছিল।

এ ধরনের বিচারপতিদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনের বিষয় পর্যালোচনা করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঠানোর দাবি জানান তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে থাকা অবকাঠামো ও পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন খোকন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রাঙ্গণে এমন পরিবেশ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইনজীবীদের বসার জায়গা ও পর্যাপ্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সাময়িকভাবে শেড নির্মাণ করেও এ সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে।

তার দাবি, এক মাসের মধ্যে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে অবকাশকালীন ছুটির পর আপিল বিভাগে অন্তত তিনটি বেঞ্চ চালুর দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি।

প্রয়োজনে নতুন বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তার মতে, বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হলে বিচারাধীন মামলার চাপ কমানো এবং দ্রুত শুনানি সম্পন্ন করা সহজ হবে।

সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের বক্তব্যের সমালোচনা করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন।

খোকনের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের বিষয় প্রধান বিচারপতির কাছে তুলে ধরা বার অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করে বলেন, আইনজীবীদের বিষয়ে তিনি এমন অবস্থান নেওয়ায় বিস্মিত হয়েছেন।

সম্প্রতি আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগের ঘটনা আলোচনায় আসে।

একই বিষয়ে একাধিক রিট আবেদন এবং আগের মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগে আবেদনকারী ও তার আইনজীবীকে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে ওই অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে জুনিয়র আইনজীবীর জরিমানা মওকুফের অনুরোধ জানাতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেন খোকন। ওই আলোচনায় আপিল বিভাগে মামলার সংখ্যা এবং আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার প্রসঙ্গও ওঠে।

এরপর কথোপকথনের একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি খোকনের বক্তব্যকে আদালত অবমাননার শামিল বলে মন্তব্য করেন এবং এজলাস ত্যাগ করেন বলে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন খোকন।

প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগের ঘটনা নিয়ে বুধবার জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়। ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে উল্লেখ করে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এক সংসদ সদস্য।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে কোনো বিরোধের বিষয় নয়; বরং একজন আইনজীবীর আচরণকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। তবে ওই আচরণকে সরকার সমর্থন করে না বলেও জানান তিনি।

সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি অ্যাটর্নি জেনারেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!