যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৯ PM ৪৭
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক

ছবি:সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের নতুন অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগে চার দেশে মোট প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার করে সম্পদ কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানজির আহমেদ জানিয়েছেন, নতুন অভিযোগগুলো আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আগে থেকে চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব অর্থ ব্যবহার করে বিদেশে বিলাসবহুল সম্পদ কেনা এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের একটি ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ রাখার অভিযোগও রয়েছে। আত্মীয়দের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি। দুদকের অনুসন্ধানের পর অভিযোগগুলোর সত্যতা ও দায় সংশ্লিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের পাশাপাশি সরকারি পদে নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন ঘিরেও আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেছে দুদক। অভিযোগের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং পদায়নে অর্থ নেওয়ার বিষয় রয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার, সিটি করপোরেশনের দরপত্র এবং প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে বলে দুদকের তথ্য থেকে জানা গেছে।

ঢাকা ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি নিয়েও একাধিক অভিযোগ পেয়েছে দুদক।

দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং তাঁর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট, প্রভাব খাটানো, ঘুষ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। নতুন করে পাওয়া অর্থ পাচারের অভিযোগগুলো সেই অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি দুদকের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে দাবি করেছেন, তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের আগেই তাঁর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা তৈরি করা হচ্ছে।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!