স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সাত ধাপের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশের বিষয়ে সরকার আগে থেকে কিছু জানত না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশের আগে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিংবা সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করেনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসির পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কয়েকটি ধাপের তারিখ ঘোষণার খবর তাঁরা দেখেছেন। তবে এসব তারিখ নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরকারকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনগুলোতে দেখেছি নির্বাচন কমিশন কয়েক ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। আমি দেশবাসীকে জানাতে চাই, এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।’
নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক স্বাধীনতার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়ে থাকে।
তিনি জানান, সাধারণত স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা ও বৈঠক করা হয়। এসব সমন্বয়ের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে সে ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তুতিমূলক সভা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বড় ধরনের প্রশাসনিক আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু ভোটের দিন নির্ধারণ করলেই এ ধরনের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ হয় না। এর সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের সমন্বয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দসহ একাধিক বিষয় যুক্ত থাকে।
তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার জন্য বাজেটের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, ইউপি নির্বাচনের যে সম্ভাব্য তারিখগুলো নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে, সেগুলো নির্ধারণের আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
মীর শাহে আলম আবারও বলেন, ‘এখানে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে। নির্বাচন কমিশন যে তারিখগুলো ঘোষণা করেছে, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বা সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানে না।’
এদিকে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন এখতিয়ার নিয়ে সরকারের আপত্তি নেই বলেও প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য প্রচলিত সমন্বয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক প্রস্তুতির সঙ্গে নির্বাচনের সময়সূচির বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত।
ফলে ইসির প্রকাশিত ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সাত ধাপের তারিখ নিয়ে সরকারের অবস্থান এখন পর্যন্ত পরিষ্কার—তারিখ নির্ধারণের আগে এ বিষয়ে সরকারকে অবহিত করা হয়নি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও কোনো আলোচনা হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!