যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাঁচ দফা পদক্ষেপের আহ্বান তারেক রহমানের

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৯ PM ৭৭
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাঁচ দফা পদক্ষেপের আহ্বান তারেক রহমানের

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক উদ্যোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে দেশগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বুধবার স্থানীয় সময় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় ও সাশ্রয়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা।

তারেক রহমান বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অংশ ০ দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমান।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বাংলাদেশ চলতি বাজেটে প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তবে তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষতি মোকাবিলা করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হবে।

দেশের অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুদ্ধার ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে বাংলাদেশের লক্ষ্যের কথাও জানান তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সবুজ শিল্পের প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার প্রসঙ্গে তারেক রহমান সাশ্রয়ী অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের অর্থ নিয়মিত পুনঃপূরণ এবং এর পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপের বিকল্প নেই।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!