নন্দীপাড়া এলাকায় জিরানী খাল পরিদর্শন করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর নদী ও খালগুলোকে দূষণ ও দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এর অংশ হিসেবে ঢাকার ৫৫টি খালের দুই পাড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দীপাড়া এলাকার জিরানী খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব তথ্য জানান তিনি। এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি খালের দুই পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও হাঁটার পথ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে খালের জায়গা অবৈধভাবে দখল ঠেকানোর পাশাপাশি নগরবাসীর চলাচলের সুযোগ বাড়ানো এবং পরিবেশের সৌন্দর্য ধরে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
খালের দূষণ কমাতে পয়ঃবর্জ্য শোধনের বিষয়েও নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে বর্জ্য পরিশোধনের প্রক্রিয়া তদারকির জন্য গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
রাজধানীকে দ্রুত বিদেশের কোনো শহরের আদলে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির বদলে ধাপে ধাপে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য ঢাকা গড়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে নদী-খাল রক্ষা এবং নগর পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে সাধারণ মানুষের সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানান, সম্প্রসারিত এলাকার ড্রেনেজ ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। তবে এসব এলাকার সমন্বিত উন্নয়নে একটি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য আরও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে কালুনগর, মান্ডা, জিরানী ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরির প্রকল্পটি ৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে। এতে সরকারের অর্থায়ন ৭০ শতাংশ এবং ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়ন ৩০ শতাংশ।
প্রকল্পের আওতায় ৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ জিরানী খালটির প্রস্থ ৪ থেকে ২৫ মিটার। চারটি খাল মিলিয়ে মোট ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন, খালের সীমানা নির্ধারণ, ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫৮৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনাও রয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে মান্ডা খালের কাজের অগ্রগতি ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, জিরানী খালের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, কালুনগর খালের ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শ্যামপুর খালের ২ দশমিক ৫ শতাংশ।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!