যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়ার কাছে এলএনজি, বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫২ PM ৪৯
অস্ট্রেলিয়ার কাছে এলএনজি, বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তি সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সৌজন্য সাক্ষাৎ। সংগৃহীত

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সুযোগ তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

সাক্ষাতের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেল স্যাম মস্টিন এসির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান হাইকমিশনার এবং তাঁর হাতে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাপত্র তুলে দেন। এ জন্য অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেলকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।

আলোচনায় বাংলাদেশের জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানোর বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি। তিনি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি অনুসন্ধান, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিকিৎসা প্রযুক্তি, লজিস্টিকস এবং উৎপাদন খাতে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগামী নভেম্বরে ক্যানবেরায় অনুষ্ঠেয় সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠক এবং টিআইএফএ বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশলসহ বিভিন্ন কারিগরি খাতের দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় কাজের সুযোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি বৃত্তি ও একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচিতে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। ঢাকায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার একটি ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি।

দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বাড়াতে অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফার্দার এডুকেশন (টিএএফই) প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন তিনি। এর মধ্যে কেয়ারগিভারসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনায় আসে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে অস্ট্রেলিয়ার মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সংকটের টেকসই সমাধানে দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অংশীদারত্বে বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ ও চলাচল বাড়ানোর বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পাবে।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার দেশটির ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ইতিবাচক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কারেরও প্রশংসা করেন।

পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারে তাঁর দেশের আগ্রহের কথাও জানান সুসান রাইল।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে উপস্থিত ছিলেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!