যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

দখলমুক্ত রাখতে ফুটপাতে চলবে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান: ডিএনসিসি প্রশাসক

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৬ PM ৩২
দখলমুক্ত রাখতে ফুটপাতে চলবে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান: ডিএনসিসি প্রশাসক

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল করা হবে, সেসব জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। নগরবাসীর চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী এ অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক।

শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সিটি করপোরেশনকে কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে কাউকে আগে জানাতে হবে—এমন কোনো আইন বা বিধি থাকলে তা দেখাতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নগরসেবা নিশ্চিত করা এবং মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ তৈরি করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব।

তিনি জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও হকারের কারণে বিভিন্ন এলাকায় পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় সম্প্রতি মিরপুর-১০ থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘদিন দখলে থাকা ফুটপাত উন্মুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ফার্মগেটসহ অন্যান্য দখলকবলিত এলাকাতেও অভিযান চালানোর কথা জানান তিনি।

ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, তিনি নিজেও বিএনপির একজন কর্মী। দলের সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়েই ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, কিছু মহল তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। দলের ভেতরে কিংবা বাইরে যারা দুষ্কর্মে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার জন্য একটি মনিটরিং টিম গঠন করেছে ডিএনসিসি। শনিবার দুপুরে সংস্থাটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডিএনসিসি প্রশাসকের নির্দেশে মিরপুর-১০ এলাকায় গঠিত মনিটরিং টিম নিয়মিতভাবে এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে। ফুটপাত দখল করে কোনো দোকান বা স্থাপনা তৈরি করা হলে সংশ্লিষ্ট মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিয়ে প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরকে ‘ক্লিন ও গ্রিন’ করার লক্ষ্য নিয়ে গত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তাঁর মতে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ কমে যায়। তাই বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং পরিত্যক্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার কথাও জানান প্রশাসক।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৯০ দিনের কর্মসূচিকে সামনে রেখে ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন বাড়ির মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় তিন ধরনের লিফলেটও বিতরণ করা হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!