যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৯ PM ৩১
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে গুরুত্ব দিয়ে এখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্যায়ে এগোচ্ছে সরকার।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তিন দিনের এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৩ থেকে ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এতে শতাধিক দেশের অংশগ্রহণ রয়েছে এবং প্রায় ২০০ বক্তা ও এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যুক্ত হচ্ছেন।

সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে উৎপাদন ও বিনিয়োগের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানি খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত নিশ্চয়তা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের মায়েদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছানো হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে কৃষকদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর হেলথ কার্ডের মাধ্যমে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব সেবাকে ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগ পেতে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। তাঁরা স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীকে উচ্চতর চিকিৎসার জন্য পাঠানোর কাজ করবেন।

শিক্ষা খাতের সংস্কারের ক্ষেত্রে সনদনির্ভরতার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানো এবং সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিস্তারের কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

তরুণ জনগোষ্ঠীকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও স্টার্টআপে সহায়তা বাড়ানোর কথাও তুলে ধরেন তিনি।

কৃষিকে অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের জন্য প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন ও বাজারসংযোগ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, গ্রামীণ উদ্যোক্তা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষির উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফায়েড কারখানার ৫৩টি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, উন্নয়নের জন্য কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে জনগণের সেবায় আরও কার্যকর করার কথা বলেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করাকে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারেই সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির সুযোগ কাজে লাগানোর কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে মৎস্য, পর্যটন, জ্বালানি, জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় সম্ভাবনার বিষয়গুলো উঠে আসে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে এমন একটি অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব, যেখানে দেশগুলো একসঙ্গে উন্নতি করবে এবং নাগরিকরা পারস্পরিক সুবিধা পাবে।

এবারের বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের মূল আলোচনার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারস্পেস ও তথ্যক্ষমতা; বাণিজ্য, সংযোগ ও কৌশলগত প্রবৃদ্ধি; জলবায়ু, সহনশীলতা ও মানব নিরাপত্তা এবং গণতন্ত্র ও সুশাসন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!