যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে ২৩ কোটি টাকার সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ PM ৪১
চট্টগ্রামে ২৩ কোটি টাকার সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি:সংগৃহীত

চট্টগ্রামে জাল দলিল তৈরি ও ব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সরকারি খাস জমি দখলে রাখার অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের এক নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কমিশন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং বর্তমানে বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক। মামলার অনুমোদন পাওয়া অন্য ব্যক্তিরা হলেন ফাতেমা বেগম, মো. ফরিদ আহমদ, মোহাম্মদ ফাহিম আহমেদ, হাসিনা মমতাজ, মোহাম্মদ ফয়েজ আহমদ, রোকেয়া সুলতানা ও শাহিন সুলতানা।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি জমির জাল দলিল তৈরি করেন এবং সেগুলো বৈধ নথি হিসেবে ব্যবহার করেন। পরে ওই জমি ভোগদখলে রেখে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগটি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার গোঁসাইলডাঙা মৌজার লিজ আউট প্ল্যানের ১৬ নম্বর প্লটের ২৪ দশমিক ৯৬ শতক জমি নিয়ে।

দুদকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মৌজা মূল্য বিবেচনায় স্থাপনা বাদে ওই জমির মূল্য প্রায় ১৭ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এর সঙ্গে জমির বকেয়া ভাড়া প্রায় ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা যোগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ টাকা।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ না করেই অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে জাল নথি তৈরি ও ব্যবহারের মাধ্যমে জমির দখল বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

দুদক বলছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর দুদকের চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়কে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারি জমির দুর্নীতি

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!