যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে পদক্ষেপের আশ্বাস তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৩ PM ৪৫
ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে পদক্ষেপের আশ্বাস তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সংগৃহীত ছবি

সাংবাদিকদের স্বার্থে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। প্রয়োজন হলে বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ওয়েজবোর্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, নবম ওয়েজবোর্ড যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবিও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং এই উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।

সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না থাকলে অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা পেশায় আগ্রহ হারাতে পারেন এবং নতুনদেরও এ পেশায় আসার সুযোগ কমে যেতে পারে।

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গণমাধ্যম মালিকদেরও সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়ে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তা কার্যকর না করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক হিসেবে কারা বিবেচিত হবেন, সেই সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, পেশাদার সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা সমস্যার মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বা সাংবাদিকদের লেখালেখি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে না। ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হয়রানি, অসত্য তথ্য ও অপতথ্য ছড়ানোর মতো ঘটনা মোকাবিলায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।

কোনো সংবাদ ভুলবশত আইনের ব্যত্যয় ঘটালে সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতির যে প্রস্তাব সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এসেছে, সেটিও সরকার বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধান ও শব্দচয়ন নিয়ে আলোচনা চলছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার প্রতি সরকারের অবস্থান তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করতে চায় না। সাংবাদিকরা যাতে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।

ডিইউজে সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকরা দীর্ঘ সময় কাজ করলেও অনেক ক্ষেত্রে ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন। ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ডিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার অবিলম্বে দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি জানান। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না করা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারি বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

সভায় ডিইউজের সহ-সভাপতি রাশেদুল হক, দপ্তর সম্পাদক ইকবাল মজুমদার তৌহিদ, কল্যাণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন রাজ্জাক, প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিক লিটন, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ গাজী আনোয়ার, তালুকদার এ এইচ এম নুরুল মোমেনসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, কল্যাণ, ওয়েজবোর্ড, সাংবাদিকের সংজ্ঞা, সাইবার নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয় সভায় আলোচনা হয়।

সভা শেষে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর উত্থাপিত দাবি-দাওয়াগুলো লিখিতভাবে দেওয়ার আহ্বান জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী। লিখিত প্রস্তাব পেলে সেগুলো বাস্তবায়ন ও পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া সরকারের জন্য সহজ হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় অব্যাহত রাখার কথাও বলেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!