যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

মহানগর থেকে উপজেলা পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগ সরকারের

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৫ PM ৫০
মহানগর থেকে উপজেলা পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগ সরকারের

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। ছবি: সংগৃহীত

দেশের নগর ও আবাসন ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আনতে মহানগর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেছেন, কোথায় আবাসিক, বাণিজ্যিক বা অন্যান্য স্থাপনা হবে, তা নির্ধারণ করে অঞ্চলভিত্তিক জোনিংয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিচালনা করা হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী জানান, প্রথম পর্যায়ে মহানগরগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ হচ্ছে। এরপর বড় শহর পেরিয়ে উপজেলা পর্যায়েও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জাকারিয়া তাহের বলেন, আরবান ডেভেলপমেন্ট ডাইরেক্টরেটের (ইউডিডি) মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রায় ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। তাই ইউডিডিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, স্থাপত্য, কাঠামোগত ও বৈদ্যুতিক পরিকল্পনাকে সমন্বয় করে ভবনের পূর্ণাঙ্গ নকশা অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নির্মাণ শেষে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ডিজাইনারদেরও ভবনটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তৈরি হয়েছে কি না, তা প্রত্যয়ন করতে হবে।

অনুমোদিত নকশা ছাড়া বা নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মিত ভবন শনাক্তের কাজও চলছে বলে জানান জাকারিয়া তাহের। এ ধরনের ভবনের বিষয়ে নতুন বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে এবং সেটি আগামী এক মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভায় তোলার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

নগর পরিকল্পনার জন্য হালনাগাদ তথ্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, বর্তমান জনসংখ্যা, বসতি ও আবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে নতুন করে উপযুক্ত শুমারি প্রয়োজন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নগর ও আবাসন পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।

রাজধানীর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন জাকারিয়া তাহের। তিনি জানান, গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০টি বাড়িঘর রয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব বাড়ির আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় সেপটিক ট্যাংক ও সোকওয়েল করা হয়নি। অনেক আবাসন প্রকল্পে বর্জ্য পরিশোধনের জন্য স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টও রাখা হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, গুলশান, বনানী ও হাতিরঝিলের পরিবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। এসব এলাকার লেক ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

নগর ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বের ভারসাম্য আনার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, গত সাত মাসে ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশালে ছয়টি নতুন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বগুড়াসহ অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জাকারিয়া তাহেরের মতে, কোনো এলাকায় ডেভেলপমেন্ট অথরিটি না থাকলে সিটি করপোরেশনকে একই সঙ্গে নকশা অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে কার্যকর চেক অ্যান্ড ব্যালান্সের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এ কারণে নগর ব্যবস্থাপনাকে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বেসরকারি আবাসন খাতকেও পরিকল্পিত নগরায়ণের কাঠামোর মধ্যে আনার কথা জানান মন্ত্রী। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি আবাসন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিকল্পনা ও শর্ত মানতে হবে। আগের প্রকল্পের কাজ কতটা নিয়ম মেনে হয়েছে, সেটিও পরবর্তী প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর মতো দীর্ঘমেয়াদি মর্টগেজ সুবিধা চালু না হলে বড় পরিসরে আবাসন নিশ্চিত করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি এবং সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ঢাকার বাসযোগ্যতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন গৃহায়নমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে বাসযোগ্যতার সূচকে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। অতিরিক্ত জনঘনত্বের কারণে রাজধানীকে বাসযোগ্য করে তোলা কঠিন হলেও সমন্বিত পরিকল্পনা ও বিভিন্ন খাতের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি করার চেষ্টা থাকবে বলে জানান তিনি।

জাকারিয়া তাহের বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। পরিবেশ রক্ষা, সঠিক আবাসন ব্যবস্থা এবং নগর ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতা করলে আরও নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!