ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য কেনা ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের মধ্যে প্রথম চালানে ১৮টি পাঠিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড। ১২ অক্টোবর পাঠানো এই চালানের তথ্য মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায় তৈরি হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির এসব কোচ।
প্রথম চালানে চার ধরনের কোচ রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কার, তিনটি এসি চেয়ার কার, দুটি এসি স্লিপার কোচ এবং দুটি এসি পাওয়ার কার। পাওয়ার কারগুলোতে ট্রেনের দায়িত্বে থাকা গার্ডদের জন্য আলাদা কক্ষের পাশাপাশি মালপত্র রাখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রাইটস লিমিটেডের মধ্যে ২০২৪ সালে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ কেনার চুক্তি হয়। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে একই ভারতীয় কারখানা থেকে ১২০টি এলএইচবি প্রযুক্তির ব্রডগেজ কোচ সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। রেল খাতে আন্তর্জাতিক প্রকল্প বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ রাইটস লিমিটেড এর আগে বিশ্বের ২০টির বেশি দেশে ২৮০টির বেশি ইঞ্জিন এবং ১ হাজার ৮৫টির বেশি কোচসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রেনসেট সরবরাহ করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন কোচগুলোর নকশায় যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তার পাশাপাশি বাংলাদেশের রেল পরিচালনার বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোচে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল, ফুটরেস্টসহ হেলানো যায় এমন আসন এবং বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা রাখার কথা বলা হয়েছে। এসি কোচগুলোতে ফ্যান, সমন্বিত সিসিটিভি ক্যামেরা, জরুরি অ্যালার্ম ও আংশিক খোলা যায় এমন জানালাও রয়েছে। দীর্ঘ যাত্রায় যাত্রীদের প্রয়োজন বিবেচনায় শিশুদের যত্ন নেওয়ার জন্য ডে-কেয়ার কক্ষ এবং প্রার্থনার জন্য পৃথক কক্ষের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোচের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ছাদকে আরও মজবুত করার পাশাপাশি সংঘর্ষের সময় যাত্রীদের সুরক্ষা বাড়াতে ইউরোপীয় মানদণ্ড EN 15227 অনুসরণ করে বডি নকশা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ভারতীয় মানদণ্ডের ৭৫০ ভোল্টের পরিবর্তে ৪১৫ ভোল্টের উপযোগী করে কোচগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে বলে রাইটসের তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
প্রথম চালানের ১৮টি কোচ পাঠানোর মধ্য দিয়ে ২০০টি কোচ সরবরাহের প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়েছে। বাকি কোচগুলো কবে নাগাদ দেশে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে সরবরাহ করা সংবাদে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। নতুন কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত হলে যাত্রীদের আসনসংখ্যা, ভ্রমণের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!