যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৭ জুন ২০২৬,২ আষাঢ় ১৪৩৩

আদর্শিক বিরোধিতার কারণে কোণঠাসা করা হয়েছিল: মাহফুজ আলম

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ AM

১২
আদর্শিক বিরোধিতার কারণে কোণঠাসা করা হয়েছিল: মাহফুজ আলম

মাহফুজ আলম। পুরনো ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম দাবি করেছেন, আদর্শিক অবস্থানের কারণে সরকারের ভেতরে তাকে কোণঠাসা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত আক্রমণ, সমালোচনা ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন মাহফুজ আলম। ‘সব দোষ মাহফুজ আলমের ইতিবৃত্ত’ শিরোনামের ওই পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্ক, সমালোচনা এবং তার বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রচারণা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আদর্শিক গোষ্ঠীর সমালোচনার মুখে থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে জুলাই আন্দোলনের পক্ষের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেননি। বরং নিজের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কটূক্তি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ টেনে মাহফুজ আলম প্রশ্ন তোলেন, নির্দিষ্ট সময়ের দায়িত্ব পালনের জন্য যদি তাকে দায়ী করা হয়, তাহলে একই সময়ে দায়িত্ব পালনকারী অন্যদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে জবাবদিহিতা থাকা উচিত।

তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করলেও কোনো গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষমূলক অবস্থান গ্রহণ করেননি। নীতি ও মতাদর্শভিত্তিক আলোচনা এবং বিতর্ককে তিনি গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সাবেক এই উপদেষ্টা দাবি করেন, সরকারের দায়িত্বে থাকার সময় আদর্শিক বিরোধিতার কারণে তিনি চাপে ছিলেন এবং একপর্যায়ে নিজের নিরাপত্তা ও সম্মানের স্বার্থে অনেক বিষয়ে নীরব থাকতে বাধ্য হন। তবে নীরব থাকার পরও ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধ হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাহফুজ আলম আরও বলেন, বর্তমানে তিনি কোনো সরকারি দায়িত্বে নেই এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতৃত্বেও নেই। তারপরও বিভিন্ন মহলের সমালোচনা ও আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার বিষয়টি তার কাছে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যক্তি আক্রমণ, বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ও গালিগালাজের সংস্কৃতি পরিহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ব্যক্তি নয়, বরং নীতি, মতাদর্শ ও রাষ্ট্রীয় বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা হওয়া উচিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!