ছবিঃ সংগৃহীত
ঢাকা: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে ১২ দলীয় জোট। জোটের নেতারা মনে করছেন, যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এই বাজেট দেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর এক যৌথ বিবৃতিতে জোটের শীর্ষ নেতারা এ প্রতিক্রিয়া জানান। তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, জনগণের চাহিদা এবং জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
বিবৃতিতে নেতারা উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
১২ দলীয় জোটের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশীয় শিল্প, কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে উৎপাদনমুখী খাতকে উৎসাহ দেওয়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তবে জোটের নেতারা বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। তাদের মতে, বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত না হলে বাজেটের কাঙ্ক্ষিত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না। এজন্য প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর তদারকির আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে তৃণমূল পর্যায়ে বাজেটের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ওপর। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অবকাঠামো এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুফল যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সমানভাবে পায়, সে বিষয়ে সরকারকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ মনে করেন, জাতীয় অগ্রগতি নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং মানবাধিকার রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিকদের গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী নেতাদের মধ্যে ছিলেন ১২ দলীয় জোটের প্রধান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে, দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া থাকলেও ১২ দলীয় জোটের এই সমর্থন সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তবে বাজেটের সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে বাস্তবায়নের গতি, স্বচ্ছতা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের সক্ষমতার ওপর।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ১২ দলীয় জোট।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!