যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬,১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

তিস্তা নদীর ভাঙনে কুড়িগ্রামে ২৫টি বাড়ি বিলীন, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, ০২:৫৬ PM

৬০
তিস্তা নদীর ভাঙনে কুড়িগ্রামে ২৫টি বাড়ি বিলীন, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

ছবি : সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি ও চতুরা গ্রামে তিস্তা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর স্রোতের তীব্রতায় গত কয়েক দিনে অন্তত ২৫টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) থেকে নদীর পানি কমতে শুরু করার পর তিস্তার প্রবল স্রোতে পূর্ব তীর রক্ষায় স্থাপন করা জিও ব্যাগের বাঁধ ভেঙে যেতে থাকে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।

এ পর্যন্ত ইদ্রিস আলী, শহিদুল হক ও আতাউল ইসলামের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া আরও শতাধিক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদী তীর রক্ষায় স্থাপন করা জিও ব্যাগ প্রচণ্ড স্রোতের কারণে ধসে পড়ছে এবং কোনোভাবেই ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনটি পরিবার তাদের বসতঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। আরও অন্তত ২০টি বাড়ি বর্তমানে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রামহরি এলাকায় গত এক সপ্তাহে প্রায় ২৫টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

এদিকে তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে প্রায় শতকোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে পূর্ব তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে তাড়াহুড়ো করে কাজ বাস্তবায়ন এবং পরিকল্পনায় দুর্বলতার কারণে জিও ব্যাগ কার্যকরভাবে টিকতে পারছে না।

রামহরি গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা জাহেরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা শুরু হলেও প্রকল্পের কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসীকে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

আরেক বাসিন্দা খলিল মিয়া বলেন, নদী ভাঙনের কারণে তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জায়গাও নেই।

এনসিপির স্থানীয় নেতা মজিদুল ইসলাম জানান, তারা বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে।

Tista Kurigram

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!