ছবি : সংগৃহীত
রংপুর-৬ আসনের জামায়াতে ইসলামী দলের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাবিটা এবং কাবিখা কর্মসূচির একাধিক প্রকল্পে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের প্রকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে এমপির অনুকূলে টিআর খাতে ৩০ লাখ টাকা, কাবিটা খাতে ২৫ লাখ টাকা এবং কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দের ভিত্তিতে মোট ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব আকারে দাখিল করা হয়েছে।
সরেজমিনে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার তুলারামপুর এলাকায় দেখা যায়, একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কাবিখা প্রকল্পের আওতায় একটি নামাজঘর উন্নয়ন ও মাটি ভরাট প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে এমপির ভগ্নিপতি ইয়াকুব আলীকে।
একই এলাকায় রাস্তা সংস্কার, গাইডওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটসহ আরেকটি প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফ শাওনকে, যিনি এমপির ভাগ্নে বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া আরও কয়েকটি প্রকল্পে নিকট আত্মীয় ও দলীয় কর্মীদের যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিক প্রকল্প একই স্থানে পুনরায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মতে, পুরোনো অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।
তবে প্রকল্প সভাপতি ইয়াকুব আলী দাবি করেন, তিনি বরাদ্দ বা অর্থের বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না এবং নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জামায়াত এমপি রংপর৬
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!