ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার জেলেদের বহনকারী একটি মাছ ধরার ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে ডুবে যাওয়ার তিন দিন পার হলেও এখনো নিখোঁজ ছয় জেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও বুধবার সকাল পর্যন্ত তাঁদের খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
দুর্ঘটনায় ট্রলারে থাকা ১১ জন মাঝিমাল্লার মধ্যে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুজন বর্তমানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন ফোরকান হাওলাদার, তাঁর ছেলে সাইদুল ইসলাম, আল আমিন, হারুন মিয়া, এমাদুল এবং আকাশ। সবাই পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়া ট্রলারমালিক এমাদুল সিকদার জানান, গত শনিবার রাতে তাঁরা মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সাগরে যান। পরদিন রাতে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল দমকা বাতাসে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়।
তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ট্রলারের ভেতরে থাকা কয়েকজন বের হতে পারেননি। অন্যরা ট্রলারের ভাঙা অংশ ও মাছ ধরার ভাসমান বয়া আঁকড়ে ধরে সাগরে ভাসতে থাকেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ভোরে পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি মাছ ধরার ট্রলার তাঁদের উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ট্রলারডুবির ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এতে ছয়জন নিখোঁজ এবং পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধারের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার কারণে এবং অতিরিক্ত লবণপানি পান করায় উদ্ধার হওয়া দুজন জেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি নিখোঁজ জেলে
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!