যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬,১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বেপজা, জাতীয় রপ্তানিতে অবদান ১৭.৫১ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৫ PM

২৫
রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বেপজা, জাতীয় রপ্তানিতে অবদান ১৭.৫১ শতাংশ

ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে কিছুটা নিম্নগতি থাকা সত্ত্বেও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ এসেছে বেপজাধীন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) থেকে।

বেপজা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বেপজাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে রপ্তানি হয়েছে ৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য।

তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি ছিল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বেপজার রপ্তানি ছিল ৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে একদিকে দেশের মোট রপ্তানি ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমলেও, অন্যদিকে বেপজার রপ্তানি ২ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড

রপ্তানির পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও রেকর্ড গড়েছে বেপজা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ৩৬টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান বেপজার সঙ্গে লিজ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ।

চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সামোয়া এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।

এসব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৭১৭ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বেপজার ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ প্রস্তাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বেপজার তথ্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তিবদ্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে প্রায় ৭৫ হাজার ৭৪৪ জন বাংলাদেশির নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

নতুন বিনিয়োগের বড় অংশই এসেছে অপ্রচলিত ও বহুমুখী উৎপাদন খাতে। এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যাগ ও লাগেজ, ফ্যাশন এক্সেসরিজ, টেক্সটাইল, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, ব্লুটুথ হেডফোন, এয়ারপ্লেন অ্যামেনিটি কিট, বিভিন্ন ধরনের ড্রোন, জুতা ও জুতার উপকরণ, তাঁবু, চামড়াজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ক্যাম্পিং ফার্নিচার, গ্রিনহাউস হাইড্রোপনিকস টেন্ট, কৃষিজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি সামগ্রী উৎপাদন ও রপ্তানি করা হবে।

বেপজার কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত বিনিয়োগ অনুমোদন, সহজ ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। এর ফলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!