যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২ আশ্বিন ১৪৩৩

তেল মিলছে না অনেক দোকানে, বেড়েছে আটা-ময়দার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২২ AM ৩২
তেল মিলছে না অনেক দোকানে, বেড়েছে আটা-ময়দার দাম

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। অনেক দোকানে পর্যাপ্ত তেল না থাকার পাশাপাশি আটা ও ময়দার দামও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বেকারি পণ্যের বাজারে। বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি জানিয়েছে, শনিবার থেকে বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম সমন্বয় করা হবে।

১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না অনেক দোকানি। বিক্রেতাদের অভিযোগ, অর্ডার দেওয়ার পরও সরবরাহ পেতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

১১ নম্বর কাঁচাবাজারের দোকানি তামিম জানান, অর্ডার দেওয়ার পরও কোম্পানি থেকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে দোকানে তেল না থাকায় কিছু ক্রেতাকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

আরেক বিক্রেতার দাবি, সরবরাহ কম থাকার পাশাপাশি খুচরা বিক্রিতে লাভের ব্যবধানও খুব কম। তাঁর দেওয়া হিসাবে, এক লিটার সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকায় কিনে ১৯৯ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী তেল বিক্রিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

সম্প্রতি সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। ব্যবসায়ীরা ১০ টাকা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। পরে ২ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিগুলো প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন দাম ২০৪ টাকা নির্ধারণ করে, যা আগে ছিল ১৯৯ টাকা।

তবে দাম সমন্বয়ের পরও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে বাজার ঘুরে পাওয়া তথ্য থেকে দেখা গেছে।

এর পাশাপাশি আটা-ময়দার দামও বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে এর সর্বনিম্ন দাম ছিল ৪৫ টাকা। টিসিবির হিসাবে, এক মাসে আটার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

খোলা ময়দার দাম বর্তমানে কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। এক মাস আগে এই পণ্য ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্যাকেটজাত ময়দার দামও বেড়ে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা হয়েছে, যেখানে এক মাস আগে দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা।

আটা-ময়দার মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কথাও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুতের বাড়তি দাম ও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন জানান, শনিবার থেকে বেকারি পণ্যের দাম সমন্বয় করা হবে। কিছু পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাম একই রেখে পণ্যের ওজন কমানো হতে পারে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে জানান, ১০ টাকার একটি রুটির দাম ১০ টাকা রাখা হলেও ৪০০ গ্রামের পরিবর্তে সেটির ওজন ৩৫০ বা ৩২০ গ্রাম করা হতে পারে। তাঁর দাবি, উৎপাদনে ব্যবহৃত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হওয়ায় বেকারি পণ্যের দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন হচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল ও কাঁঠালবাগান বাজারে ডিম ও মুরগির দামও তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৫০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, অতিবৃষ্টি ও গরমে কিছু খামারে মুরগি মারা যাওয়ার পর অনেক খামারি নতুন করে উৎপাদন শুরু করেননি। সাম্প্রতিক লোডশেডিংয়ের কারণেও কিছু খামারে উৎপাদন কমেছে বলে তারা জানান।

সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। লম্বা বেগুন ৭০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, করলা ও বরবটি ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং আগাম শিম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পটোল, ঢ্যাঁড়স ও কাঁকরোলের মতো কয়েক ধরনের সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং পাবদার দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি।

শেওড়াপাড়া বাজারের ক্রেতা শরিফুদ্দিন বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের খাদ্যতালিকায় ডিম ও মুরগির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এসব পণ্যের দাম বেশি থাকার মধ্যে তেল, আটা-ময়দাসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের ব্যয়ও বাড়ায় সংসার পরিচালনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!