আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রতীকী চিত্র। সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। সোমবার লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশের বেশি বাড়ে। একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের মূল্য ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও বেড়ে ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়ায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগই বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। তেহরান সংঘাতের অবসান ও গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি প্রস্তাব দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ১ দশমিক ৩২ ডলার বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে ওঠে। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৭০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছায়।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শান্তি প্রস্তাব পাঠায়। শনিবার ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানান। তবে পরদিন অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের আরও আলোচনার সম্ভাবনার কথা বলেন। ফলে কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে কিছুটা আশার পাশাপাশি বাজারে অনিশ্চয়তাও বজায় রয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও জ্বালানি বাজারের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এএনজেডের বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, ইরান ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি এখনো উঁচুতে রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও সম্প্রতি সৌদির দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।
তবে সরবরাহ পরিস্থিতির আরেকটি দিক কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদক দেশগুলোর রপ্তানি দৈনিক ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানি বাড়ার ফলে এই প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়েও তেল পরিবহন বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে দৈনিক প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়েছে বলে কেপলারের প্রাথমিক হিসাবে উঠে এসেছে। একই সময়ে সৌদি আরব পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে রপ্তানি বাড়িয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম সামান্য বাড়লেও ডব্লিউটিআইয়ের দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে ওঠার পর দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার সামাল দিতে রপ্তানিতে সম্ভাব্য বিধিনিষেধের আলোচনা তৈরি হয়েছিল। এতে মার্কিন পরিশোধনাগারগুলোর উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়।
বিশ্ববাজারে এখন তাই একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে সরবরাহঝুঁকি, অন্যদিকে অঞ্চলটির কয়েকটি দেশ থেকে বাড়তে থাকা তেল রপ্তানি—দুই বিপরীত প্রবণতা একসঙ্গে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিই আগামী দিনে তেলের বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!