যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

হরমুজে জাহাজে হামলার প্রভাবে ১০২ ডলার ছাড়াল ব্রেন্ট তেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪০ PM ৫৬
হরমুজে জাহাজে হামলার প্রভাবে ১০২ ডলার ছাড়াল ব্রেন্ট তেল

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ২৮ ডলার বা ২ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছায়। গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ২৭ মিনিটে এই দর রেকর্ড করা হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৬৬ ডলার বা ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়ায়।

তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তাঝুঁকি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার ও অন্যান্য জাহাজে হামলার সংখ্যা বাড়ায় এই পথে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যেত।

এর আগের দিন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সদস্য দেশগুলোর আগে ঘোষিত তেলের মজুত দ্রুত বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সমর্থন দেয়। পাশাপাশি বাজারে ডিজেলের সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইইএ জানিয়েছে, মার্চে ঘোষিত মজুত ছাড়ার পরিকল্পনার অবশিষ্ট অংশ দ্রুত বাজারে আনা হলে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

আইইএর তথ্য অনুযায়ী, মার্চের ওই কর্মসূচির আওতায় এরই মধ্যে প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে। সদস্য দেশগুলোর হাতে এখনো প্রায় ১১০ কোটি ব্যারেল সরকারি জরুরি তেল মজুত রয়েছে, যার মধ্যে ২০ কোটির বেশি ব্যারেল ডিজেল। প্রয়োজন হলে আরও মজুত বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

তবে মজুত ছাড়ার উদ্যোগের পরও মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহঝুঁকি বাজারের ওপর চাপ তৈরি করছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌযানে হামলা বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় তেল উৎপাদনেও আবহাওয়াজনিত বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!