অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলি খান। ছবি: সংগৃহীত
অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলি খানকে দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও একই সিনেমায় দেখার আগ্রহ ছিল দর্শকদের। তবে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন এখনো বক্স অফিসে দেখা যাচ্ছে না। প্রিয়দর্শন পরিচালিত ‘হাইওয়ান’ মুক্তির দ্বিতীয় দিনেও বড় ধরনের সাড়া পায়নি। দুই দিনে ভারতে সিনেমাটির আয় দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
কনিক-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ‘হাইওয়ান’ আয় করেছে ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। এদিন দেশটির প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটির গড় দর্শক উপস্থিতি ছিল ১২.৭৭ শতাংশ। সন্ধ্যার প্রদর্শনীতে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতি রেকর্ড করা হয় ১৬ শতাংশ। এর আগে মুক্তির প্রথম দিনে ছবিটির আয় ছিল ৩ কোটি রুপি।
বক্স অফিস ইন্ডিয়ার হিসাবে, অক্ষয় কুমারের জন্যও উদ্বোধনী আয়টি খুব একটা শক্তিশালী নয়। সিনেমাটির প্রথম দিনের রিপোর্টেড ভারতীয় গ্রস আয় ৩ কোটি ৬০ লাখ রুপি। এর আগে ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া অক্ষয়ের ‘ভুল ভুলাইয়া’ প্রথম দিনে প্রায় ৩ কোটি ৮৮ লাখ রুপি আয় করেছিল।
সাইফ আলি খানের ক্ষেত্রেও ‘হাইওয়ান’-এর শুরুটা আগের একটি সিনেমার কাছাকাছি। ২০০৭ সালের ‘তা রা রাম পুম’ প্রথম দিনে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ রুপি আয় করেছিল। সেই তুলনায় নতুন সিনেমাটির উদ্বোধনী সংগ্রহও খুব বেশি এগিয়ে নেই।
অক্ষয় ও সাইফের এই জুটি সর্বশেষ ১৭ বছর আগে পর্দায় একসঙ্গে হাজির হয়েছিল। ‘তাশান’সহ আরও কয়েকটি সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তারা। দীর্ঘ বিরতির পর তাদের ফেরার সিনেমা হওয়ায় ‘হাইওয়ান’কে ঘিরে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।
তবে মুক্তির সময়ে সিনেমাটিকে বক্স অফিসে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখেও পড়তে হচ্ছে। ‘হনুমান অংশ’ মুক্তির ৩৭ দিন পরও শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে এবং এরই মধ্যে ২০০ কোটি রুপি আয়ের গণ্ডি পেরিয়েছে। অন্যদিকে ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’ও ভালো ব্যবসা করছে। ভারতে সিনেমাটির মোট আয় প্রায় ১৬০ কোটি ৪৫ লাখ রুপি।
‘হাইওয়ান’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে শ্যাম নামের এক দৃষ্টিহীন কেয়ারটেকারকে ঘিরে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারক প্রধানকে হত্যার অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরপর প্রতিশোধের নেশায় খুনি পরশুরাম প্রধানের মেয়ে নন্দিনীর পিছু নিলে তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেন শ্যাম।
পুলিশের নজর এড়িয়ে নন্দিনীকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে শ্যাম এমন এক গোপন তথ্যের সন্ধান পান, যা গল্পের মোড় পুরোপুরি বদলে দেয়। এভাবেই প্রতিশোধ, রহস্য ও বিপদের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে সিনেমাটির কাহিনি।
সিনেমাটি নির্মাণে প্রায় ১৩০ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রযোজনার পেছনে খরচ হয়েছে প্রায় ১১৫ কোটি রুপি। আর প্রিন্ট ও বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে আরও ১৫ কোটি রুপি।
অক্ষয় কুমার সাইফ আলি খান হাইওয়ান
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!