যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

বিদেশি কর্মীর ঠিকানা যাচাই ছাড়া ফোমেমায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিবন্ধন নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৬ PM ৯৯
বিদেশি কর্মীর ঠিকানা যাচাই ছাড়া ফোমেমায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিবন্ধন নয়

সংগৃহীত ছবি।

বিদেশি কর্মীদের বর্তমান আবাসনস্থলের তথ্য সঠিক রাখতে নতুন নিয়ম চালু করছে মালয়েশিয়ার ফোমেমা। ৭ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মীর যাচাইকৃত আবাসন ঠিকানা ফোমেমা সিস্টেমে নিবন্ধন বা হালনাগাদ না করলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রক্রিয়ার নিবন্ধন সম্পন্ন হবে না। এ তথ্য নিশ্চিত করার দায়িত্ব থাকবে নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্যানেল এজেন্সির ওপর।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের অবস্থানের তথ্য আরও নির্ভুলভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে ফোমেমা। নতুন ব্যবস্থায় একজন কর্মী বর্তমানে যে ঠিকানায় থাকছেন, সেটি যাচাই করে সিস্টেমে সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঠিকানা পুরোনো থাকলে বা পরিবর্তনের পর তথ্য সংশোধন না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিবন্ধন আটকে যেতে পারে।

ফোমেমার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীর আবাসন ঠিকানা যাচাইয়ের দায়িত্ব নিয়োগকর্তা ও প্যানেল এজেন্সিকে পালন করতে হবে। কোনো কর্মী আগের বাসস্থান ছেড়ে নতুন জায়গায় উঠলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিবন্ধনের আগে সিস্টেমে নতুন ঠিকানা হালনাগাদ করতে হবে। তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি সংরক্ষণ করা যাবে।

নতুন ব্যবস্থার ফলে শুধু নথিতে থাকা ঠিকানার ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে কর্মী বাস্তবে কোথায় বসবাস করছেন, সেটি সঠিকভাবে নথিভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফোমেমার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীদের তথ্য হালনাগাদ রাখা এবং প্রয়োজনের সময় তাদের অবস্থান শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানোই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের আবাসন ও কর্মস্থলসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো কর্মী নিয়োগকর্তার নির্ধারিত আবাসনের বাইরে থাকেন, আবার কর্মস্থল পরিবর্তন বা সাবকন্ট্রাক্টরের অধীনে কাজ করার ঘটনাও রয়েছে। অভিযানের সময় বৈধ ওয়ার্ক পারমিট থাকা সত্ত্বেও ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার ঘটনাও সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণে শ্রমিকের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়ে।

ফোমেমার নতুন নিয়মে সেই তথ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কাঠামোবদ্ধ করা হচ্ছে। কর্মীর বাসস্থান বদল হলে নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে তথ্য সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিবন্ধন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ফোমেমা মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ করা প্রতিষ্ঠান, যা দেশটিতে বিদেশি কর্মীদের বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনা করে। মালয়েশিয়ায় প্রবেশের পর বিদেশি কর্মীদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফোমেমায় নিবন্ধনের কথা রয়েছে। পরে অনুমোদিত প্যানেল ক্লিনিকে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়।

৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিবন্ধন ব্যবস্থার সঙ্গেই আবাসন ঠিকানা যাচাইয়ের শর্ত যুক্ত হচ্ছে। ফলে কর্মীর বসবাসের জায়গা পরিবর্তিত হলেও পুরোনো ঠিকানা রেখে দেওয়ার সুযোগ সীমিত হবে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিকের ক্ষেত্রে নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ। তাদের আবাসন পরিবর্তনের তথ্যও সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা এজেন্সিকে যথাসময়ে সংশোধন করতে হবে।

ফোমেমা জানিয়েছে, আবাসন ঠিকানা নিশ্চিত বা হালনাগাদ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীর নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে না। এর ফলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিদেশি শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থানের একটি ডিজিটাল রেকর্ডও সংরক্ষিত হবে।

কোনো বিদেশি কর্মী আগের আবাসন ছেড়ে অন্য ঠিকানায় চলে গেলে নতুন ঠিকানাটি ফোমেমা সিস্টেমে আগে হালনাগাদ করতে হবে। এরপরই স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিবন্ধনের পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করা যাবে।

বিদেশি কর্মীর বর্তমান আবাসন ঠিকানা সঠিকভাবে যাচাই ও হালনাগাদ রাখার প্রধান দায়িত্ব নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্যানেল এজেন্সির ওপর দেওয়া হয়েছে।

ফোমেমা মালয়েশিয়া

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!