ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছয় দিনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক কালচার অ্যান্ড রিলেশনস অর্গানাইজেশনের (আইসিআরও) দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০০ জন ব্লগার, কনটেন্ট নির্মাতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই শোকানুষ্ঠানের বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে আইসিআরওর প্রধান মোহাম্মদ মেহদি ইমানিপুর জানান, বিভিন্ন দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তারা শেষকৃত্যের বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে তা বিশ্বব্যাপী তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সারদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন জ্যাকসন হিঙ্কল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে ইংরেজিতে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এই ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, জ্যাকসন হিঙ্কল নিজেকে ‘মাগা কমিউনিজম’-এর সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাশিয়া ও ইরানপন্থি বক্তব্যের জন্য পরিচিত এবং তার অনুসারীর সংখ্যা কয়েক মিলিয়নের বেশি। এর আগে তিনি ২০২৫ সালে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে বসবাস শুরু করার কথাও জানিয়েছিলেন।
খামেনির শেষকৃত্যে মার্কিন নাগরিকদের অংশগ্রহণের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং হোয়াইট হাউসের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেবাস্টিয়ান গোরকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদ্রোহসংক্রান্ত আইনের একটি অংশ শেয়ার করেন। এরপর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বিভিন্ন মহল থেকে ওঠে।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তিনি নিহত হন। ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে তাকে মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, শেষকৃত্যের বিভিন্ন আয়োজনে ৪৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। এছাড়া ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ শোকমিছিল ও স্মরণসভায় অংশ নেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!