যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকান অভিবাসীর মৃত্যু, উত্তপ্ত হচ্ছে দুই দেশের সম্পর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ PM ৭৬
যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকান অভিবাসীর মৃত্যু, উত্তপ্ত হচ্ছে দুই দেশের সম্পর্ক

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তাদের গুলিতে এক মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত ৭ জুলাই হিউস্টনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় নিহত হন ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো। তিনি তিন সন্তানের বাবা ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো যৌথভাবে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও অভিবাসন, বাণিজ্য ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানের কারণে এই সম্পর্ক আরও জটিল হয়েছে।

আইসিই কর্মকর্তাদের দাবি, আরাউজো যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ট্রাফিক সিগনালে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়িকে ধাক্কা দেন এবং কর্মকর্তাদের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাকে গুলি করা হয়। তবে নিহতের পরিবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, আরাউজো যদি জানতেন পেছনে থাকা গাড়িটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ছিল, তাহলে তিনি অবশ্যই গাড়ি থামাতেন।

আরাউজোর মৃত্যুর পর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মেক্সিকান নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আইসিই অভিযানে এবং আটককেন্দ্রে মেক্সিকান নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি ও ফৌজদারি তদন্তের আহ্বান জানান। মেক্সিকো সরকারের দাবি, নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করতেই এই তদন্ত প্রয়োজন।

আরাউজোর মৃত্যু নিয়ে বিতর্কের মধ্যে আইসিই’র কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মেক্সিকো সরকারের অভিযোগ, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর আইসিই’র কার্যক্রমে বেশ কয়েকজন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আইসিই’র পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং আটক ব্যক্তিদের আইনি অধিকার, খাবার, পানি ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আরাউজোর মৃত্যুর ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সম্পর্কের পুরোনো সমস্যাগুলোকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব মেক্সিকোর উত্তর আমেরিকা গবেষণা কেন্দ্রের শিক্ষাবিদ হোসে লুইস ভালদেস উগালদে বলেন, ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি নিরাপত্তা, অভিবাসন ও বাণিজ্যসহ দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকে প্রভাবিত করবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ফাউস্তো প্রেতেলিন মনে করেন, এই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্ক কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে। তার মতে, প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার কারণে মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সুবিধা মিললেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চাপ আরও বাড়তে পারে।

মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্তো ভেলাস্কো জানিয়েছেন, নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একাধিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তবে তাতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় এখন আরও কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে মেক্সিকো।

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, মেক্সিকো সরকারের আরও আগে সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল। আবার অনেকে বলছেন, প্রকাশ্য অবস্থানের মাধ্যমে মেক্সিকো তার নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পরিবর্তে আরও টানাপোড়েনের দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!